দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী একটি উড়োজাহাজ হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় যখন যাত্রীদের আহত হওয়ার কারণ খুঁজছিলেন সংশ্লিষ্টরা, তখন তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই উড়োজাহাজের দায়িত্বে থাকা পাইলট মাদক পরীক্ষায় দ্বিতীয়বারও পজিটিভ হয়েছেন। পরীক্ষায় তিনি গাঁজা সেবন করেছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজটি। এআই-২৩৭৯ নম্বরের এয়ারবাস এ-৩২০ নিও উড়োজাহাজটিতে ১৩৭ যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
উড্ডয়নের পর মাঝ আকাশে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনির মুখে পড়ে উড়োজাহাজটি। ক্রুজিং অবস্থায় আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায় সেটি। এ সময় উড়োজাহাজে থাকা অন্তত ২০ যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানান, আহত ক্রু সদস্যদের মধ্যে দুজনের মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ও ঘাড়ে আঘাত লাগে।
ঘটনার পর দিল্লিতে অবতরণের পর উড়োজাহাজটির পাইলটের মাদক পরীক্ষা করা হয়। রোববার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল, পরীক্ষায় পাইলটের শরীরে মনঃপ্রভাবকারী পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরে কিছু সময় পর আবারও তার পরীক্ষা করা হয়। মঙ্গলবার সূত্র জানায়, দ্বিতীয় পরীক্ষার ফলও পজিটিভ এসেছে।
সূত্রের দাবি, দ্বিতীয় পরীক্ষায় ওই পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার সময় পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না বলেও জানিয়েছে সূত্র। তখন এয়ারবাস এ-৩২০ নিওটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সহকারী পাইলট। ঠিক সেই সময় উড়োজাহাজটি ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এর কারণ পাইলটের কোনো পদক্ষেপ, কারিগরি ত্রুটি নাকি জলবাহী ব্যবস্থার কোনো সমস্যা—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
উড়োজাহাজটি হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার ফলে ভেতরে ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে পাইলট নিজেও আসন থেকে ওপরে উঠে যান। ককপিটের বিভিন্ন জিনিসও ভেসে ওঠে। একইভাবে উড়োজাহাজের পেছনের অংশে যারা সিটবেল্ট বাঁধা অবস্থায় ছিলেন না, তাদের কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পাইলটকেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে ভারতের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো। মঙ্গলবার ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তদন্তকারীরা কারিগরি, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক—সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করছেন।
এর মধ্যে উড়োজাহাজ ও এর বিভিন্ন ব্যবস্থা পরীক্ষা, উড্ডয়নের তথ্য সংরক্ষণকারী যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নথি পর্যালোচনা, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কাজ রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব প্রমাণ সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা করা হবে। তদন্তের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ঘটনার পরিস্থিতি ও এর পেছনে থাকা কারণগুলো নির্ধারণ করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা চিহ্নিত করা।
তদন্ত চলাকালে কোনো একটি বিচ্ছিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বানও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের ভাষায়, তদন্তটি স্বাধীন, প্রমাণনির্ভর ও পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার এয়ার ইন্ডিয়ার বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাম্পবেল উইলসন বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এরপর মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার কাছ থেকেও সরাসরি ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করছে, সেটিও দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিমান চলাচলে নিরাপত্তাই মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিমান সংস্থা বা অন্য কোনো পক্ষ থেকেই নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না।
তবে পাইলটের মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার তথ্য সামনে এলেও, ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটটি কেন হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল, তার চূড়ান্ত কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।