দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলায় নববিবাহিত এক ব্যক্তিকে মাদক মামলায় ফাঁসাতে তার স্ত্রীর সাবেক প্রেমিকের বিরুদ্ধে চার কেজি কোকেনসহ বিপুল পরিমাণ মাদক পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। শুধু মাদক পাঠিয়েই থামেননি ওই ব্যক্তি, পরে পুলিশকেও বিষয়টি জানিয়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চলতি মাসের শুরুতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ খবর পায়, গান্দেরবাল জেলায় একটি মাদকের চালান পাঠানো হচ্ছে। পরে সন্দেহজনক পার্সেলটি আটক করে পুলিশ। পার্সেলটি যার ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল, তিনি একজন পোলট্রি খামারি। কয়েক মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, পার্সেলের ভেতরে পোলট্রির খাবার থাকার কথা ছিল। মাদকের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তবে তিনি পুলিশকে জানান, চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের একটি নম্বর থেকে তার কাছে ফোন এসেছিল। ফোনে তাকে বিয়ে না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল।
এই তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে নববধূকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উঠে আসে তার সাবেক প্রেমিক তারিক আহমেদ সোফির নাম। শ্রীনগরের জাইনাকোট এলাকার বাসিন্দা সোফি ওই পোলট্রি খামারির স্ত্রীকে আগে ভালোবাসতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে না পেরে পরে নববিবাহিত স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন তিনি।
গত ৯ আগস্ট সোফিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ৮ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে থেকে মাদকভর্তি একটি পার্সেল পাঠানোর খবর পায় তারা। পরে গান্দেরবালের ডাকঘর থেকে পার্সেলটি আটক করা হয়। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পার্সেল খুলে চার কেজি কোকেন, ৮০ গ্রাম গাঁজা এবং কিছু মনঃপ্রভাবকারী মাদক পাওয়া যায়।
পার্সেলটি উত্তর প্রদেশের কানপুর থেকে পাঠানো হয়েছিল। গান্দেরবাল থেকে কানপুরের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার।
পুলিশের কাছে ওই পোলট্রি খামারি জানান, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পোলট্রির খাবারের নমুনা পাঠানোর কথা বলেছিলেন। ওই ব্যক্তির নম্বর তদন্তকারীদের দেন তিনি। নম্বরটি সৌদি আরবের বলে জানা যায়।
এরপর আগের সেই ফোনকলের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুলিশ ধারণা করে, ঘটনাটি শুধু মাদক পাচারের নয়, বরং ওই ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রও হতে পারে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কানপুরের আরিব নামে এক ব্যক্তি সোফির বন্ধু। সোফির নির্দেশেই আরিব মাদকের পার্সেল পাঠিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সোফিই প্রথমে তার বন্ধুর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এরপর পুলিশকে খবর দেন। তবে সতর্কতার কারণে তিনি সরাসরি পুলিশকে খবর না দিয়ে অন্য কয়েকজনের মাধ্যমে তথ্য দেন।’
সোফির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮/২০ ও ২১ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কানপুরের বাসিন্দা আরিব বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তিনি কীভাবে মাদক সংগ্রহ করে পোলট্রি খামারির ঠিকানায় পাঠিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা আরও জানার চেষ্টা করছেন, আরিব পার্সেলের ভেতরে কী ছিল তা জানতেন কি না। পুলিশ বলছে, সোফি নিজে মাদক পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন এবং আরিবকে শুধু পার্সেল পাঠাতে বলেছিলেন, নাকি আরিবই মাদক সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছিলেন—এখনো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
/অ