দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৫ জন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় একক হামলার মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী।
সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাতারস্তানের নিঝনেকামস্ক শহরে ড্রোন হামলা চালানো হয়। শহরটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে এক হাজার ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে।
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী নিঝনেকামস্কের তানেকো তেল শোধনাগারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ারপয়েন্ট জানিয়েছে, হামলায় তাদের তৈরি এফপি-১ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে হামলা চলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই করা ছবিতে দিনের বেলায় আকাশে ধোঁয়া ও আগুনের বড় বড় কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ সময় বিমান হামলার সতর্কসংকেতও শোনা যায়।
ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার এমন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে, যেগুলো যুদ্ধের অর্থ ও রসদ সরবরাহে ভূমিকা রাখে বলে কিয়েভের দাবি। ইউক্রেনের ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রিয় কোভালেঙ্কো বলেন, এসব স্থাপনা ইউক্রেনে হামলা চালানো, অস্ত্র উৎপাদন এবং রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হয়।
তবে রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, শিল্প স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও হামলা হয়েছে। সেখানে সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন—এমন বেসামরিক লোকজনও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছে তারা। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
তাতারস্তানের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। নিঝনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলায়েভ এ ঘটনাকে সবার জন্য গভীর বেদনার বলে উল্লেখ করেছেন। হামলার পর তাতারস্তানে শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের দাবি, একই রাতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৫০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গুদাম, তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি অবকাঠামোকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের শহর ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ হামলায় ২১ জন নিহত হন। এ ছাড়া ফ্রন্টলাইনের কাছে খারকিভে রুশ গোলাবর্ষণে রাতারাতি আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/