দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের নতুন জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজাই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সংশয়ী এই অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তার নিয়োগকে দেশটির নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৭১ বছর বয়সী রেজাই সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব হিসেবে মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। মাত্র মার্চেই জোলঘাদরকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে পরিচিত রেজাই এর আগে তাঁর সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন নিয়োগের ফলে ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণী পদে এলেন তিনি।
ইরানি-আমেরিকান শিক্ষাবিদ ভালি নাসর মনে করেন, সম্ভাব্য মার্কিন চুক্তির আগে আইআরজিসি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর মোজতবা খামেনির নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের অংশ হিসেবেই রেজাইকে এই পদে আনা হয়েছে। তাঁর মতে, আগের সচিব জোলঘাদরের তুলনায় আইআরজিসির ওপর রেজাইয়ের প্রভাব অনেক বেশি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় ইসলামপন্থী গেরিলা সংগঠনগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রেজাইয়ের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্থান শুরু হয়। পরে তিনি আইআরজিসির প্রতিষ্ঠাকালীন সনদ প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন।
১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের দায়িত্ব নেন। দীর্ঘ সময় বাহিনীটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আইআরজিসিকে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ইরাক যুদ্ধের পরও রেজাই ইরানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রেই ছিলেন। তিনি এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন। চারবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় পাননি তিনি।
রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। গত মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, আলোচনা ছিল কেবল পার হওয়ার জন্য একটি সেতু, স্থায়ী কোনো প্রতিশ্রুতি নয়।
জুনে সিএনএনের ফ্রেড প্লেইটগেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান সম্ভাব্য মার্কিন হামলা বা আগ্রাসনের জন্য প্রস্তুত। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশ্ব দেখতে পাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন রেজাই। ইরানের পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ট্রাম্পের তৃতীয় যুদ্ধ মাঝপথেই পরাজিত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও তাঁর অবস্থান কঠোর। ইরানের বন্দর অবরোধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন জাহাজ ও বাহিনীকে গুরুতর ঝুঁকি ও হতাহতের মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর ইরান ও ওমানের সার্বভৌমত্ব রয়েছে বলেও দাবি করেছেন রেজাই।
রেজাইয়ের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ তাই শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা, হরমুজ প্রণালি এবং চলমান সংঘাত নিয়ে ইরানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এমএস/