দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) কিংবা আইএনএসের (ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম) মতো কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার না করেই পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির বিমানবাহিনীর পাইলটরা মানচিত্র পাঠ ও প্রাথমিক দিকনির্দেশনা পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের বিমানবাহিনীর উপসমন্বয়কারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জাফারি।
বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে জাফারি গত ২ মার্চ কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে চালানো অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। কাতারের ওই ঘাঁটিতে সাধারণত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন বলে তিনি দাবি করেন।
জাফারি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কাজ করতে করতে ইরানিরা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। বিমানবাহিনীর পাইলটরা জিপিএস ও জড়তাভিত্তিক নির্দেশনা ব্যবস্থা ছাড়াই মানচিত্র পাঠ এবং প্রাথমিক নেভিগেশন পদ্ধতির মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করতে শিখেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় ইরানি যুদ্ধবিমান থেকে কোনো ধরনের সংকেত পাঠানো হয়নি। এমনকি বেতার যোগাযোগ বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক সংকেতও ব্যবহার করা হয়নি।
জাফারির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ ইরানের বিমানবাহিনীর এফ-৫ যুদ্ধবিমান কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল-আদিরি ঘাঁটিতেও হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। এ সময় কুয়েতি বাহিনীর ভুল গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় বলে দাবি করেন তিনি।
জাফারি জানান, শিরাজের শহীদ দাওরান বিমানঘাঁটি থেকে চারজন পাইলট সু-২৪ যুদ্ধবিমানে করে আল-উদেইদ বিমানঘাঁটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মরদেহ সম্প্রতি দেশে ফিরেছে। তবে অপর তিন পাইলটের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি বলে তিনি জানান।
ইরানের এই কমান্ডার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শুরুর দিকে প্রতিপক্ষ সম্ভবত ধারণাই করেনি যে ইরানের বিমানবাহিনী এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সাহস দেখাবে।
ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলেও দাবি করেছে তেহরান। পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ ওই হামলায় প্রতিপক্ষকে সহায়তা করেছে বলেও অভিযোগ ইরানের।
তেহরানের দাবি, ইরানের প্রতিরোধ, পাল্টা অভিযান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত অবস্থানের মুখে ৪০ দিন পর ৮ এপ্রিল প্রতিপক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
পরে ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে ইরানের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
/অ