দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে গড়ানোর পর ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান। একদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির সম্ভাবনা, অন্যদিকে নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি—এই দুই বিকল্পের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিকল্প গ্রহণ করলে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ছাড় পাবে ইরান। এতে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের এমন ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যা যুদ্ধের আগে তাদের ছিল না। অথচ যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতি ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল।
অন্যদিকে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে তা আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ আগের হামলাগুলোও ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে পারেনি।
আরেকটি সম্ভাবনা হলো বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা। সে ক্ষেত্রে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং জাহাজে হামলার জবাবে সময়ে সময়ে পাল্টা আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ পথও ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিচ্ছে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যদি সাময়িকভাবে নতুন নৌপথ চালু হয়, তবে সেখানে কোনো ধরনের বাধা বা কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবেই উন্মুক্ত থাকতে হবে এবং এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া যাবে না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে নিজের প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। এবারও তিনি ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ফেরার পূর্বশর্ত হয়ে উঠেছে। তবে ওমান ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতার আলোচনা চলছে, তা ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত মেনে নেবে কি না, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, প্রণালি পুনরায় চালুর চুক্তি খুব শিগগিরই হতে পারে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই এখন মনে করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়ও কোনো না কোনোভাবে এই সংঘাত চলতে পারে।
গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি নতুন বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন এবং কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বুধবার লাস ভেগাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। কিন্তু একসময় হয়তো তা করতেই হবে।’
এদিকে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়; চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াও নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পপন্থী কড়া অবস্থানের বিশ্লেষকদের একাংশও এখন হোয়াইট হাউসকে তাড়াহুড়ো না করে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স
/অ