দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার অভ্যন্তরে দুটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরে রুশ টহল নৌযান এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজেও হামলার কথা জানিয়েছে কিয়েভ।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রের বাশনেফট-নোভোইল এবং ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, মস্কো যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নের জন্য যে তেল আয়ের ওপর নির্ভর করে, তা সীমিত করাই এ হামলার উদ্দেশ্য।
ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল এভরায়েভ জানান, তিনি যাকে ‘সবচেয়ে বড় শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন, সেই হামলার পর স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। এতে চারজন আহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি আরও বলেন, বাশনেফট-নোভোইল শোধনাগারটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরে এবং স্লাভনেফট-ইয়ানোস শোধনাগারটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
তিনি আরও দাবি করেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি সামরিক টহল নৌযান এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল রপ্তানিতে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষায়, ‘রাশিয়াকে শান্তির পথ বেছে নিতে হবে।’ তার দাবি, ইউক্রেনের এসব হামলা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও জোরদার করছে।
গভর্নর এভরায়েভ জানান, রাতভর ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের আকাশে ৯৩টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ তেল শোধনাগারের সংরক্ষণ ট্যাংকে পড়ে আগুন লাগে এবং তা নিয়ন্ত্রণে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ছবি ও ভিডিও যাচাই করে বিবিসি জানিয়েছে, শোধনাগার থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। যাচাই করা একটি ছবিতে অন্তত চারটি স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
তবে ৫ আগস্ট বাশনেফট-নোভোইল শোধনাগারে হামলার বিষয়ে বাশকোর্তোস্তানের কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর পুরো শহর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
খারকিভ অঞ্চলের বালাকলিয়া শহরে রাতের ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানায়, আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় দুটি ভবনে আগুন ধরে যায়।
পরে খারকিভ অঞ্চলের প্রধান ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, লোজোভা রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
খেরসন অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর প্রকুদিন জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর পুরো শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, খেরসন অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা গেছে। রাতের এক পর্যায়ে সংযোগ নেমে আসে প্রায় ৩১ শতাংশে। পরে তা কিছুটা উন্নতি হয়ে ৬৯ শতাংশে পৌঁছায়।
অন্যদিকে কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় ওডেসা বন্দরে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে রুশ হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা রাতভর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামো এবং ড্রোন সংরক্ষণস্থলে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।
সূত্র: বিবিসি
/অ