দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের এক উদ্যোক্তা দাবি করেছেন, নিজের মাকে চেহারার কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোয় এক কর্মীকে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের সিনসিয়াংভিত্তিক হেনান কুয়াংশান ক্রেন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছুই পেইজুন এ ঘটনার কথা সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। উদারতার জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চীনের সবচেয়ে উদার বস’ নামে পরিচিত।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডাসিয়াং নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ৩৩১ সন্তানকে নিয়ে শুরু হওয়া গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছুই পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান দেখানো একজন ভালো মানুষ হওয়ার ভিত্তি।’
এ সময় তিনি এক সাবেক কর্মীর ঘটনার বর্ণনা দেন। ছুইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মীর বাবা মারা যান যখন তার বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। পরে তিনি জানতে পারেন, নিজের মায়ের চেহারা নিয়ে বিব্রত হওয়ায় ওই কর্মী তাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাননি।
ঘটনাটি জানার পর ছুই কর্মীকে প্রশ্ন করেন, ‘তোমার বাবা যখন মারা যান, তখন তোমার বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। তারপরও তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করলে?’ এরপরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
পরে দীর্ঘদিন চাকরি না পেয়ে ওই ব্যক্তি ছুইয়ের কার্যালয়ে এসে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চান এবং পুনর্বহালের আবেদন করেন। তবে ছুই তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘তোমার প্রতি আমার কোনো শ্রদ্ধা নেই। দুঃখিত, কিন্তু তোমাকে চলে যেতে হবে।’
পরে ওই কর্মীর মা অবসরে গেলে ছুই তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিভাগে একই বেতনে একটি চাকরি দেন। তার আশঙ্কা ছিল, ছেলে হয়তো বার্ধক্যে মায়ের দেখাশোনা করবে না। তবে এ বিষয়ে ওই নারীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মূল ভূখণ্ড চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।
অনেক ব্যবহারকারী ছুইয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একজন মন্তব্য করেন, ‘যে নিজের বাবা-মাকে ভালোবাসতে পারে না, সে অন্যদের প্রতিও কেবল ভান করে ভালো আচরণ করে। এমন কর্মী না থাকাই প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো।’
আরেকজন লেখেন, ‘পেশাগত দক্ষতা শেখানো যায়, কিন্তু কৃতজ্ঞতা ও পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধই মানুষের সবচেয়ে মৌলিক গুণ।’
তবে অন্য একটি অংশের মত, কর্মীর ব্যক্তিগত নৈতিকতার বিষয়ে নিয়োগকর্তার হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। একজন মন্তব্য করেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মূল্যবোধ প্রচার করতে পারে, কিন্তু পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ব্যক্তিগত বিষয়। কর্মী যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাহলে তাকে বরখাস্ত করা তার শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।’
আরেকজনের ভাষ্য, ‘একটি সত্যিকারের সভ্য সমাজে নিয়োগকর্তার নৈতিক বিচারক হওয়া উচিত নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব আইনের।’
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
/অ