দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর-এজেকে) বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে উঠে এসেছে কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন। এ আসনগুলো বিলুপ্তির দাবিকে ঘিরে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হওয়ায় নির্বাচনও ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছে।
গত জুনের শুরু থেকে অঞ্চলটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি চলেছে। টানা দুই সপ্তাহ ব্যাংক বন্ধ ছিল এবং অধিকাংশ এলাকায় এখনো মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী পুঞ্চ বিভাগ, যেখানে আন্দোলন সবচেয়ে তীব্র, দীর্ঘ সময় কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-কে ৫ জুন স্থানীয় সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সংগঠনটির নেতাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন, আবার কেউ রাওয়ালাকোটে অবস্থান কর্মসূচি থেকে আন্দোলন পরিচালনা করছেন।
প্রাথমিকভাবে ভর্তুকিযুক্ত আটা ও সস্তা বিদ্যুতের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের দাবির সংখ্যা এখন ৩৮টিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল করা।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ৪৫ সদস্যের আইনসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মিরপুর বিভাগে নির্ধারিত সময়ে ভোট হয়েছে। মুজাফফরাবাদ বিভাগ এবং শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় ২ আগস্ট। আর উত্তেজনাপূর্ণ পুঞ্চ বিভাগে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট।
জেএএসি নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না এবং তারা সমর্থকদের ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, ৪৫টি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ৩৩টি আজাদ কাশ্মীরের ভৌগোলিক এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়। বাকি ১২টি আসন ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এসব ভোটার লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি ও সিয়ালকোটসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও তারা আজাদ কাশ্মীর আইনসভার সদস্য নির্বাচন করেন।
এই ব্যবস্থার সূচনা ১৯৬০ সালের নির্বাচনী কাঠামো থেকে, যা ১৯৬৪ ও ১৯৭০ সালের আইন এবং পরে ১৯৭৪ সালের অন্তর্বর্তী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৮ সালের ১৩তম সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমেও এটি বহাল রাখা হয়।
আজাদ কাশ্মীর সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি চৌধুরী মুহাম্মদ ইব্রাহিম জিয়া বলেছেন, ১৯৪৭ সালের ২৪ অক্টোবর গঠিত আজাদ কাশ্মীর সরকারের ঘোষণার ঐতিহাসিক ভিত্তির ওপরই শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই আসনগুলোর "ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক—উভয় ভিত্তিই রয়েছে" এবং এগুলোকে অসাংবিধানিক বলা যায় না।
অন্যদিকে, জেএএসি নেতা কাশিফ আব্বাসির দাবি, আজাদ কাশ্মীরের বাইরে বসবাসকারী ভোটারদের মাধ্যমে আইনসভার সদস্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, "এটি আজাদ কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য নির্বাচন। অথচ ১২টি আসনের ভোটাররা আজাদ কাশ্মীরের অধিক্ষেত্রের বাইরে বসবাস করেন। বিশ্বের অন্য কোথাও এমন ব্যবস্থা দেখা যায় না।"
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩২ লাখ ভোটারের পরিবর্তে চলতি বছর আজাদ কাশ্মীরের মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে ৩৮ লাখের বেশি হয়েছে। এর মধ্যে শরণার্থী আসনগুলোর জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ১২টি আসন নিয়ে দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিরোধই এবারের নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে এবং এর ফলাফল আজাদ কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/