দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রকে দায়ী করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তমুক্ত শেনজেন ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইতালি।
শুক্রবার সিউটা সফরে গিয়ে সানচেজ বলেন, এটি স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন। তার দাবি, মানবপাচারকারী চক্র স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে অভিবাসীদের সীমান্ত পাড়ি দিতে উৎসাহিত করেছে।
স্পেনের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ হাজারের বেশি অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
সিউটা ও মেলিলা—উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি ছিটমহল—ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকার সঙ্গে একমাত্র স্থলসীমান্ত। দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রপথে সাঁতরে কিংবা সীমান্তসংলগ্ন পাথুরে এলাকা পেরিয়ে সিউটায় প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে নারী, শিশু এবং নবজাতকও ছিল। কর্তৃপক্ষের ধারণা, অনুপ্রবেশকারীদের অন্তত সাত হাজারই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
সিউটার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস বলেন, একদিনে আগত মানুষের সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৮৩ হাজার ৬০০।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকার সিউটা ও মেলিলায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। তিনি বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ফেরত পাঠাতে মরক্কো কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে।
এদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সিউটার পরিস্থিতিকে ‘ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ উল্লেখ করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থা সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন। জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রের নেতারাও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে স্পেনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালির পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় সংহতির আহ্বান জানান। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লায়েন সিউটার পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে দ্রুত সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনাটিকে ‘বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/