দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অস্ট্রেলিয়ার একটি গণগ্রন্থাগার থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে নেওয়া একটি বই অবশেষে ফিরেছে। দীর্ঘদিন পর ফিরে আসা বইটির বিলম্ব জরিমানা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সমান।
‘অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স’ নামের বইটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী কিয়ামা শহরের গ্রন্থাগারে বইটি জমা দেন এক ব্যক্তি। বাড়ি সংস্কারের সময় তিনি বইটি খুঁজে পান। একটি বন্ধ চিমনির ভেতরে ইট দিয়ে আটকানো চায়ের বাক্সের মধ্যে বইটি রাখা ছিল।
কিয়ামা গ্রন্থাগারের ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন জানান, বইটির জরিমানা হিসাব করা হয়েছে গ্রন্থাগারের পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী। বইটির ভেতরে লেখা ছিল, নির্ধারিত সময়ের পর ফেরত না দিলে প্রতি সপ্তাহে তিন পেনি জরিমানা দিতে হবে। ১৮৭২ সালে গ্রন্থাগার চালুর সময়কার নিয়ম ও বর্তমান মূল্য হিসাব করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মিশেল হাডসন বলেন, ‘এত পুরোনো কোনো বই আমাদের কাছে আগে কখনো ফেরত আসেনি।’ তিনি জানান, সাধারণত গ্রন্থাগারগুলোতে ৩০ বা ৪০ বছর দেরিতে বই ফেরত আসার ঘটনা দেখা যায়, বিশেষ করে পুরোনো বাড়ি পরিষ্কার করার সময়।
তবে বইটি কে নিয়েছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ ১৮৭০-এর দশকের গ্রন্থাগারের ধার নেওয়ার খাতা, যেখানে পাঠকদের নাম ও বই নেওয়ার তথ্য লেখা ছিল, সেটি হারিয়ে গেছে।
হাডসন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বইটির ভেতরেও শেষ পাঠকের পরিচয় পাওয়ার মতো কিছু নেই।’
গ্রন্থাগারের পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পাঠক নতুন বই নেওয়ার আগে আগের বই ফেরত দিয়ে জরিমানা পরিশোধ করতে বাধ্য ছিলেন। কোনো পরিবার একসঙ্গে তিনটি বই নিতে পারত, যদি পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্য পড়তে জানেন বলে পরিচিত থাকতেন। এছাড়া মদ্যপ অবস্থায় আসা ব্যক্তিদের বই দেওয়া হতো না।
বইটি দীর্ঘদিন চিমনির কাছে থাকার কারণে পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি গ্রন্থাগারের প্রাথমিক সংগ্রহের প্রায় এক হাজার বইয়ের মধ্যে ৫০৬ নম্বর বই ছিল। হাডসনের ধারণা, গ্রন্থাগার চালুর কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে যায়।
এখন বইটি কিয়ামা গ্রন্থাগারের স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে। হাডসন বলেন, ‘আমরা এটিকে আর ধার দেব না। এই বই ফেরত পেতে আর ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’
/অ