দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স পার্লামেন্টে চীনা বংশোদ্ভূত এক আইনপ্রণেতাকে ‘নিজ দেশে ফিরে যান’ বলায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটিতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং শিয়াওলং প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে দেশটির কোভিড-১৯ মহামারির প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
আলোচনার এক পর্যায়ে চীনে জন্ম নেওয়া গ্রিন পার্টির আইনপ্রণেতা লরেন্স শু-নান পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার্সকে তিনি কোভিডের টিকা নিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে পিটার্স বলেন, শু-নান ‘মাত্র পাঁচ মিনিট আগে’ নিউজিল্যান্ডে এসেছেন। এরপর তিনি বলেন, নিজ দেশে ফিরে যান। ওখানেই এমন মিথ্যা বলা হয়, এখানে নয়। এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ, আপনি যেটার সঙ্গে অভ্যস্ত নন। যেখানে থেকে এসেছেন সেখানে ফিরে যান।
পিটার্সের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং শিয়াওলং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, তিনি সাধারণত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন না। তবে কখনও কখনও একটি বক্তব্য বক্তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেই সবচেয়ে বেশি ধারণা দেয়।
রাষ্ট্রদূতের সমালোচনার জবাবে পিটার্স বলেন, ওয়াংয়ের মন্তব্যই তার বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করেছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নিউজিল্যান্ড একটি গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রয়েছে। তার ভাষায়, কিছু দেশে এসব অধিকার সীমিত করা হয় এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগও করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তার বক্তব্যে কেউ ক্ষুব্ধ হলে সেটিই নিউজিল্যান্ডের গণতান্ত্রিক বাস্তবতার অংশ।
এর আগেও পিটার্স ও তার দল নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট বর্ণবাদী হিসেবে সমালোচিত বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে বিতর্কে জড়িয়েছিল।
চলতি বছরের শুরুতে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী শেন জোনস ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ‘বাটার চিকেন সুনামি’ মন্তব্য করেছিলেন, যা ব্যাপক সমালোচিত হয়।
গত বছর পার্লামেন্টে বিরোধী আইনপ্রণেতা ফ্রান্সিসকো হার্নান্দেজকে উদ্দেশ করে ‘মেক্সিকানদের দেশে পাঠিয়ে দাও’ বলে মন্তব্য করেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন শেন জোনস। পরে ফিলিপাইনে জন্ম নেওয়া হার্নান্দেজ এবং লরেন্স শু-নানকে নিউজিল্যান্ডে বসবাসের জন্য ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ’ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন পিটার্স।
সূত্র:টিআরটি ওয়ার্ল্ড
যে আই