দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের একটি প্রতিনিধি দল ইরান সফর করেছে। এমন সময় এই সফর হলো, যখন টানা ১৪তম দিনের মতো একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে ওমানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পরিচালনার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
আইআরএনএ জানিয়েছে, এটি ইরান ও ওমানের চলমান কূটনৈতিক পরামর্শের অংশ। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যে টেলিফোনে কথাও হয়েছে।
তবে আলোচনায় কী ধরনের প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুদ্ধের শুরু থেকেই তেহরান বলে আসছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল পরিচালনায় তারা আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এ ধরনের ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে।
হরমুজ প্রণালির প্রবেশ ও প্রস্থানমুখে অবস্থান হওয়ায় ওমানের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আঞ্চলিক সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো সব সময় উন্মুক্ত থাকতে হবে। কোনোভাবেই নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত করা উচিত নয়।’
এদিকে, যুদ্ধবিরতি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও টানা ১৪তম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তা ভেঙে যায়।
এর মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনী কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রটি ‘মার্কিন বাহিনীকে গোয়েন্দা সহায়তা’ দিচ্ছিল।
অন্যদিকে, হুথিরা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে হুথি মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা কোনো নৌপথ বন্ধ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানে তাদের বিমান হামলা শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, খোররামাবাদ, জাস্ক, আহভাজ, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৫৫ জন নিহত এবং প্রায় ৬৫০ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/