দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বহু প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। বুধবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি রয়টার্সকে জানান, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কাজ কার্যত শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “চুক্তির খসড়া প্রস্তুত। আমাদের হাতে নথি রয়েছে। এখন কেবল কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া বাকি।”
তিনি জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১-এর আওতায় চলমান বাণিজ্য তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন। এই আইনের মাধ্যমে অন্য দেশের কথিত অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ বা অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৬০টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি সেকশন ৩০১ তদন্ত চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। এসব তদন্ত শেষ হলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নেই; বরং বিলম্বের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়া।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভারতসহ কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধ দুই বছর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ এবং তার পরবর্তী সময়ে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত ভারতের ওষুধ শিল্পের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের মোট ২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির মধ্যে ৯.৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গেছে। ফলে সম্ভাব্য নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ভারতের ওষুধ রপ্তানি খাত সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/