দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ এবং আরও ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্য এই শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
এই শুল্ক ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর অধীনে আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আগের ‘রেসিপ্রোক্যাল’ শুল্ক বাতিল হওয়ার পরও আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক বহাল রাখার আইনি ভিত্তি তৈরি করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত বছর জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ‘রেসিপ্রোক্যাল’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক বাতিল করে দেয়।
পরবর্তীতে আদালতের রায়ের পর ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার শেষ হয়েছে। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে ২৮ জুলাই পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে আসছে। এখন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোরও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের সময় এসেছে।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর শুল্কহার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চীনসহ আরও ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশটি উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করছে। তবে বেইজিং বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য সমঝোতার আলোকে ভবিষ্যতে চীনা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক পুনর্বহালের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তার বেশি নয়।
যে আই