দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী সেপ্টেম্বরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তার দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তি।’
তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে তিনি বিদ্যমান আইনের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।
মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটিতে আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেয়, আমি সেটাই করব। কিন্তু এ উদ্দেশ্যে আমরা নতুন কোনো আইন লিখব না।’
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সিটির আইন বিভাগে আলোচনা চলছে।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারে মামদানি বলেছিলেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কোনো নেতা—যেমন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—নিউইয়র্কে এলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেবেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং দেশটিতে আদালতের এখতিয়ার কার্যকর নয়। এছাড়া মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার আইসিসির সঙ্গে এ ধরনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে না। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এ কারণে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলসহ একাধিক আইন বিশেষজ্ঞ আগেই বলেছেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের নেই।
২০২৪ সালে আইসিসি জানিয়েছিল, গাজা যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
মামদানির বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে নয়, বরং মামদানিকেই গ্রেপ্তার করা উচিত।’ তার অভিযোগ, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে মামদানি ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থাকতে চাইছেন।
সাক্ষাৎকারে মামদানি আরও বলেন, গাজা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা নিয়ে তার অবস্থানও বিবেচনায় থাকবে। তবে এ বিষয়টিকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
/অ