দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি নিরাপত্তা বহরে অতর্কিত হামলায় অন্তত ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বেলুচিস্তান পোস্ট। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ফলে ৪৫ জন নিহতের তথ্যটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মস্তুং এলাকার কাছে সংঘটিত এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনটির দাবি, চলতি মাসে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি তাদের চতুর্থ এবং গত দুই সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় বড় হামলা।
বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ পরিকল্পিতভাবে প্রথমে মূল নিরাপত্তা বহরে এবং পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অতিরিক্ত সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার পর বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ নামে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। এই অভিযানে সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর ও বেলুচিস্তান পুলিশ অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমানবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জঙ্গিরা যেন কোনো ধরনের ছাড়ের আশা না করে।
এর আগে জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় এক হামলায় ২৭ জন পুলিশ সদস্য এবং লাসবেলায় পৃথক হামলায় ১১ জন সেনা নিহত হন। তবে ওই হামলায়ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সেনাবাহিনী ও বিএলএর দাবির মধ্যে পার্থক্য ছিল।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতার কেন্দ্র। রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশেই অবস্থিত চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গুরুত্বপূর্ণ গওয়াদর সমুদ্রবন্দর।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় এবং গোয়েন্দা তৎপরতা পর্যালোচনায় চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাকিস্তান সরকার।
গত ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বিএলএ ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) একাধিক বড় হামলার দায় স্বীকার করে। এর মধ্যে ৭ জুলাই টিটিপির হামলায় ১৮ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও দেশটির সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এমএস/