দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৫ সালে ইসরায়েলে সরাসরি কোনো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেনি ব্রাজিল। দেশটির জাতীয় পেট্রোলিয়াম সংস্থার ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বর্ষপঞ্জিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনাকে নিজেদের আন্দোলনের সাফল্য বলে দাবি করেছে বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলন।
জুনের শেষ দিকে প্রকাশিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্রাজিল থেকে ইসরায়েলে সরাসরি কোনো তেল রপ্তানি হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিডিএস আন্দোলন জানায়, ব্রাজিল সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর ধারাবাহিক চাপের ফলেই সরাসরি তেল রপ্তানি বন্ধ হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, ‘সহযোগিতা কমানোর ক্ষেত্রে সরাসরি রপ্তানি বন্ধ হওয়া একটি বাস্তব পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, তৃণমূল ও শ্রমিক সংগঠনের চাপ ব্রাজিলকে তার আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা স্বীকারে ভূমিকা রাখতে পারে।’
তবে বিডিএসের দাবি, সরাসরি রপ্তানি বন্ধ হলেও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে তেল ইসরায়েলে পৌঁছানোর পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তারা বলেছে, ‘এক ধাপ করে এগোচ্ছি, আমাদের চাপ অব্যাহত থাকবে।’
জ্বালানি খাতভিত্তিক সংগঠন ‘অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইসরায়েলের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯ শতাংশই এসেছিল ব্রাজিল থেকে। সে সময় দেশটি ছিল ইসরায়েলের পঞ্চম বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী।
এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে নাৎসি বাহিনীর ইহুদি নিধনের সঙ্গে তুলনা করলে তাকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে ইসরায়েল।
তবে ওই বছরই দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ব্রাজিল ইসরায়েলের চতুর্থ বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছিল বলে জানায় ‘অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল’।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাস বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা সরাসরি ইসরায়েলে কোনো তেল পাঠায়নি। তাদের ভাষ্য, বিদেশি শোধনাগারে তেল বিক্রি করা হয়েছে এবং পরিশোধিত পণ্যের চূড়ান্ত গন্তব্য তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের দুটি বড় তেল শ্রমিক ফেডারেশন সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তেল অবরোধ আরোপের আহ্বান জানায়। তবে সে চিঠির কোনো জবাব দেয়নি সরকার।
একই বছরের জুলাইয়ে ব্রাজিল সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানায়। পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতও প্রত্যাহার করে।
বিডিএস আন্দোলনের দাবি, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ব্রাজিলের তেল ইসরায়েলে পৌঁছালেও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্রাজিলের দায় থেকে যায়। তাদের মতে, কোনো চালানের পথ নয়, বরং সরবরাহে রাষ্ট্রের জ্ঞান ও বাস্তব অবদানই আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে।
/অ