দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা শনাক্তকরণ–সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন ভূকম্পবিজ্ঞানী ইউলিন চেনকে প্রায় দুই বছর ধরে আটক রেখেছে চীন। তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে এবং শিগগিরই তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী, মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং জিম্মিবিষয়ক দুটি সংগঠন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েনের মধ্যেই ঘটনাটি সামনে এলো। গত বছরের বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চেনের স্ত্রী ইউফাং রং জানান, চলতি বছরের ১৯ মার্চ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার স্বামীকে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এর ফলে তাকে মুক্ত করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় স্থান পায়। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার স্বার্থে এ ঘোষণা প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেনকে মুক্ত করার বিষয়েই ট্রাম্প প্রশাসন কাজ করছে।
২০১১ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ৫৪ বছর বয়সী ইউলিন চেন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে বসবাস করেন। তার স্ত্রী ও জিম্মিবিষয়ক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীনে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ হিসেবে চিহ্নিত একমাত্র মার্কিন নাগরিক তিনি।
ইউফাং রং আরও বলেন, গত মে মাসে বেইজিং সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার স্বামীর আটকের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। শি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রং আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিচারের আগেই চীনা কর্তৃপক্ষ তার স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তার দাবি, বিচার হবে বন্ধ দরজার আড়ালে। চীনে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান মঙ্গলবার বলেন, দেশটির বিচারব্যবস্থা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং ‘অন্যায়ভাবে আটকের’ কোনো বিষয় নেই।
ইউফাং রং জানান, তার স্বামীকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষার ভূকম্পীয় তথ্য নিয়ে গবেষণার বিষয়ে শতাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
চেনের পরিবারের উপদেষ্টা এবং সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা এরিক লেবসনের ধারণা, ভূগর্ভস্থ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার চিহ্ন গোপন করার সক্ষমতা বাড়াতে চেনের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতে চায় চীন।
তিনি জানান, চেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলেও তার কখনো কোনো নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল না এবং তিনি গোপন কোনো প্রকল্পে কাজ করেননি। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষার ভূকম্পীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে তার গবেষণার অর্থায়ন করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও বিমানবাহিনীর গবেষণাগার। গবেষণাটি চীনা শিক্ষাবিদদের সহযোগিতায় প্রকাশ্য তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত হয়েছে এবং ইন্টারনেটে উন্মুক্ত রয়েছে।
ইউফাং রংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর পরিবারকে দেখে এবং দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিয়ে বোস্টনে ফেরার প্রস্তুতির সময় বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা চেনকে আটক করেন।
আটকের পর শুরুতে তাকে দীর্ঘ সময় শক্ত চেয়ারে বসিয়ে রাখা, পড়াশোনা বা শরীরচর্চা করতে না দেওয়া এবং ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ না দেওয়ার মতো কঠোর অবস্থার মুখে পড়তে হয় বলে দাবি করেন তার স্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চেনের ওজন ১৩ থেকে ১৮ কেজি পর্যন্ত কমে গেছে এবং তিনি পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার ও মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
২০২৫ সালের ১ মে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হলেও এখনো বিচার শুরু হয়নি। সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্ত্রী ড. ইউফাং রংয়ের সঙ্গে চীনে আটক মার্কিন বিজ্ঞানী ড. ইউলিন চেন।
/অ