দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পাকিস্তানের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (এফওয়াই২০২৭) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। জ্বালানির উচ্চ মূল্য, প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ওপর সম্ভাব্য চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক প্রভাবকে এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬ প্রতিবেদনে এডিবি জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (এফওয়াই২০২৬) পাকিস্তানের অর্থনীতি প্রাথমিক হিসাবে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। শিল্প ও সেবা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং কৃষি খাতের সীমিত উন্নতির কারণে এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহে চাপের সম্ভাবনার কারণে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত পূর্বাভাসে এডিবি পাকিস্তানের চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা দিয়েছিল।
একই সঙ্গে দেশটির মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে এডিবি। সংস্থাটির মতে, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।
উল্লেখ্য, এপ্রিলের পূর্বাভাসে এডিবি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৮ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) অবশ্য দেশটির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রতিবেদনে এডিবি জানায়, পাকিস্তান একা নয়; উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশই এ বছর নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হচ্ছে। এ কারণে সংস্থাটি পুরো অঞ্চলের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে, যা ২০২৫ সালের ৫ দশমিক ৫ শতাংশের তুলনায় কম এবং এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে ০ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কম।
এডিবির মতে, ২০২৭ সালের জন্য অধিকাংশ উপ-অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত থাকলেও দক্ষিণ এশিয়া, ককেশাস এবং মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে তা কমানো হয়েছে। আর্মেনিয়া, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও তুরস্কের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস সংশোধনের পেছনে জ্বালানির উচ্চমূল্যের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব অন্যতম কারণ।
সংস্থাটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যাওয়ায় মার্চ থেকে মে সময়কালে মূল্যস্ফীতি-লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক ১৭টি অর্থনীতির মধ্যে ১০টিতে মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত সীমার ওপরে অবস্থান করেছে। আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা বা নির্বাচিত ক্ষেত্রে বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে।
এপ্রিল থেকে জুন সময়কালে ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সুদের হার ১০০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছে। ফিলিপাইন ৫০ বেসিস পয়েন্ট এবং জর্জিয়া ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়িয়েছে। অন্যদিকে কাজাখস্তান মূল্যস্ফীতি কমে আসায় জুনে ১০০ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমিয়েছে।
এডিবি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যদিও জুনে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবুও জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ নয়; সার, অন্যান্য পণ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ছে, ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালবার্ট পার্ক বলেন, "চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ার গতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং নিম্নমুখী ঝুঁকি রয়ে গেছে।"
সূত্র: ডন
এমএস/