দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকাশ পেল ন্যাটো সম্মেলনে। মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে একই দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র।
প্রথমে আঙ্কারায় পৌঁছান চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশ ও তার প্রতিনিধিদল। তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাত বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান। এর কিছুক্ষণ পর চেক সরকারের দ্বিতীয় একটি বিমান অবতরণ করে, যাতে ছিলেন প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল। তাকে স্বাগত জানান তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী মেহমেত নুরি এরসয়।
চেক সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়নি, কেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট একই বিমানে বা একই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সম্মেলনে যাননি। যদিও তারা প্রাগের একই বিমানবন্দর থেকে এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই নেতার ব্যক্তিগত বিরোধ এ ঘটনার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ন্যাটো সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে কয়েক মাস ধরে বাবিশ ও পাভেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
ন্যাটোতে চেক প্রতিনিধিদলে সাধারণত সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট—দুজনই অংশ নেন।
তবে গত মাসে বাবিশ পাভেলকে সম্মেলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর পাভেল চেক সাংবিধানিক আদালতে মামলা করেন। আদালত একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়ে কার্যত বাবিশকে পাভেলকে সম্মেলনে যাওয়ার অনুমতি দিতে বাধ্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাবিশ আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেন, আলোচনার জন্য এবং চেক প্রজাতন্ত্র কেন ন্যাটোর বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করা তিনটি দেশের একটি—তা ব্যাখ্যা করার জন্য তার আরও ‘স্থান’ প্রয়োজন।
তবে দুই নেতার মধ্যে এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত এবং বাবিশের সরকারে বিতর্কিত সরকারবিরোধী ডানপন্থী রাজনীতিককে নিয়োগে পাভেলের অস্বীকৃতি।
পাভেলকে সম্মেলনে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা বাবিশের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরে পাভেলের পরিচিত ক্ষেত্র। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল পাভেল এর আগে ন্যাটোর সামরিক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা জোটটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ।
সূত্র: সিএনএন
/অ