দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ শনিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন ইরানিরা। এ সময় পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কালো পোশাক পরা হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন এবং ইরানের পতাকা ও অন্যান্য ব্যানার নাড়াচ্ছেন। এ সময় প্রতিশোধ এবং আমেরিকার ধ্বংস হোক স্লোগান দেন ইরানিরা। এ সময় প্রতিশোধের আহ্বানের প্রতীক লাল ব্যানার হাতে নিয়ে থাকতেও দেখা যায় শোকাহত মানুষদের।
এর আগে শুক্রবার তেহরানে প্রথমবারের মতো খামেনির মরদেহ থাকা কফিন প্রকাশ্যে আনা হয়। এ সময় খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানান বিদেশি নেতারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার কফিন প্রদর্শন হলেও মেহের বলছে, খামেনির শেষ যাত্রার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো শনিবার থেকেই। মূলত শনিবার ও রোববার তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের প্রয়াত সদস্যের প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।
ইরানের কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তারা আশা করছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই বহু মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। শনিবার সকাল নাগাদ তা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ভোর ৬টা থেকে জনসাধারণের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের মূল ফটক খুলে দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পূর্বসুরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে। খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় এক কোটি মানুষ।
আগামী সোমবার অর্থাৎ ৬ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণে কোম নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। চলবে মঙ্গলবারও (৭ জুলাই)। বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ পৌঁছাবে। সেখান থেকে নাজাফের কারবালা শহরে জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা হবে। সেখানেও শোকাহত মানুষ তার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন। সবশেষে খামেনির মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে দাফন সম্পন্ন হবে খামেনির।
কেএম