দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় একটি আদিবাসী সংগঠন। তবে এ অভিযোগ নাকচ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী ‘নাহ’ আদিবাসীদের সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ এ অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি কেরু চাদের দাবি, সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় চীনা সেনারা স্থায়ী ক্যাম্প, সড়ক ও সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। এর ফলে স্থানীয়দের চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ এবং পশুচারণ গত ছয় বছর ধরে বন্ধ হয়ে গেছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সংলগ্ন তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন অন্তত পাঁচটি এলাকায় চীনা বাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে আসফিলা অঞ্চলের ওয়িং ও পনিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান, পোত্রাং এবং টিনডিংতাং। স্থানীয়দের মতে, এসব স্থানের কয়েকটি তাদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও পরিচিত।
কেরু চাদের বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে মাঝেমধ্যে চীনা সেনারা এসব এলাকায় প্রবেশ করলেও ২০২০ সাল থেকে তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই এলাকায় যাতায়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, “তাকসিং এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনীর তৎপরতা উদ্বেগজনক। আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের ভূমি হারাচ্ছি।”
এ বিষয়ে নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, অভিযোগগুলো জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, অরুণাচল প্রদেশে চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভুল এবং ভিত্তিহীন।
এদিকে জেলা প্রশাসন কিংবা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে লাদাখ সীমান্তেও চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল, লাদাখে ভারতের কোনো ভূখণ্ড চীনের দখলে যায়নি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।