দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা প্রশমনে ‘স্ট্যান্ড ডাউন’ বা সামরিকভাবে পিছু হটার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক হামলার পর উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা বিবিসির সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
তবে সোমবার ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কোনো কারিগরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অনুরোধে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত জানাননি।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। এতে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয় দুই দেশ।
সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহও না পেরোতেই তা হুমকির মুখে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আবারও সংঘাত শুরু হয়।
এর জবাবে সপ্তাহান্তে ইরানের বিভিন্ন উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের ওপর ‘অব্যাহত হামলার’ প্রতিক্রিয়াতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার ইরান পাল্টা জবাবে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি এবং এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান।
এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননও একটি কাঠামোগত শান্তি চুক্তিতে সই করে। তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ চলতে থাকায় সেই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হিজবুল্লাহর নেতা ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে লেবানন সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলেছেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের দুই দিন পর রোববার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, সুড়ঙ্গটিতে শত শত অস্ত্র মজুত ছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল।
তেহরানের দাবি, লেবাননে সংঘাত বন্ধ না হলে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা কঠিন হবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/