দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনায় জড়িয়েছে ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনকে ঘিরে ট্রাম্পের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ‘লা সেতে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ করেছিলেন’।
ট্রাম্প বলেন, ‘সে আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিল। আমার সঙ্গে ছবি তোলার এতটাই ইচ্ছা ছিল তার। আমি ছবি তুলতাম না, কিন্তু তার জন্য খারাপ লেগেছিল।’
তবে শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য পুরোপুরি মনগড়া। আমি সত্যিই বিস্মিত। কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজের মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তা আমি জানি না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটাই প্রথম নয়।’
মেলোনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হলো, তিনি পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের প্রতি যে দৃঢ়তা দেখান না, তার চেয়ে বেশি কঠোরতা দেখান নিজের মিত্রদের প্রতি।’
তিনি যোগ করেন, ‘তবে একটি বিষয় তাকে মনে রাখতে হবে— ইতালি এবং আমি কারও কাছে অনুরোধ করি না।’
মেলোনির প্রতিক্রিয়ার কিছুক্ষণ পরই ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করছেন। তার মায়ামিতে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে অংশ নেওয়া এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল।
তাজানি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘গুরুতর ও অপমানজনক’ বলে আখ্যা দেন।
এ ঘটনায় ইতালির আরও কয়েকজন মন্ত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি-ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রাণ দেওয়া মার্কিন সেনাদের স্মৃতির প্রতি এই মন্তব্য অসম্মানজনক।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, ‘মেলোনি কখনও কারও কাছে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করবেন না, এমনকি হুমকির মুখেও না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য কারও জন্যই ভালো নয়— না যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, না ইতালির জন্য, না দুই দেশের জোটগত সম্পর্কের জন্য।’
উল্লেখ্য, অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান ইস্যু, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এবং পোপ লিওকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/