দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদারের জন্য দেশীয় কট্টরপন্থী রাজনীতিকদের চাপের মুখে রয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে একদিকে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার দাবি, অন্যদিকে যুদ্ধ দ্রুত বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হচ্ছে তাকে।
শুক্রবার রাতে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরাইলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর জেরে নেতানিয়াহুর ওপর সামরিক প্রতিক্রিয়া আরও জোরদার করার চাপ বেড়েছে।
গত সপ্তাহে হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেট উত্তর ইসরাইলে আঘাত হানার পর নেতানিয়াহু বৈরুতে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে ইসরাইলের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাত্রা সীমিত রাখতে বাধ্য করেন ট্রাম্প।
হিজবুল্লাহর হামলাকে ট্রাম্প ‘খুবই ছোট এবং তেমন গুরুত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে প্রায় অকল্পনীয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, শুক্রবার তারা হিজবুল্লাহর ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ‘ডজনখানেক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে’ হত্যা করেছে। অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।
তবে এবারও বৈরুতে হামলা চালায়নি ইসরাইল। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ নিলে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত এবং ইরানের সঙ্গে সদ্য হওয়া সমঝোতা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাওয়া ট্রাম্পের অসন্তোষের মুখে পড়তে হতো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে ইসরাইল-লেবানন নতুন দফার আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে তেহরানও চাপ বাড়িয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাবে না।
পরিস্থিতি বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে হামলা বন্ধে কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে পারেন একমাত্র ট্রাম্প। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু কী করতে পারবেন আর কী পারবেন না— সেই সীমারেখা কয়েকবারই নির্ধারণ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আমাদের সেনাদের কিংবা আমাদের ভূখণ্ডের ওপর কোনো হামলা ইসরাইল মেনে নেবে না। এ ধরনের হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে।’
একইসঙ্গে তিনি জানান, উত্তর ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনারা অবস্থান করবে।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতত ইসরাইল আরও বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপে যাচ্ছে না। কারণ এই সংকটে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ট্রাম্পের হাতেই, আর সে বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন নেতানিয়াহু।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/