দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বের শীর্ষ শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি৭-এর নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মস্কোকে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অংশ নেন। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেন এখনও প্রতিরোধ বজায় রাখলেও দেশটির বিভিন্ন শহর রুশ হামলার মুখে রয়েছে।
সম্মেলনের আলোচনার পর এক ফরাসি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, জি৭ নেতারা রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি ইউক্রেনের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল।
সম্মেলনের আয়োজক ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জেলেনস্কিকে বুধবার পর্যন্ত অবস্থানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যাতে তিনি ট্রাম্পসহ অন্য জি৭ নেতাদের সঙ্গে আরও বৈঠক করতে পারেন।
সম্মেলনে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মুখোমুখি বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পায়। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এবার মস্কোর প্রতি কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার একটি সমঝোতায় আসা উচিত। তিনি যুদ্ধের উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে বলেন, পুরো বিষয়টি হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমি এটি থামাতে যা সম্ভব, তাই করব।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া, শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজ নিশ্চিত করা এবং রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করা।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, এটা ভালো যে সবাই বুঝতে পারছে রাশিয়া জিতছে না। যুদ্ধ শেষ করতে পুতিনকে চাপ দেওয়া প্রয়োজন।
সোমবার জেলেনস্কি জি৭ নেতাদের প্রতি “দৃঢ় ও অর্থবহ” পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে রাশিয়ার নতুন দফার হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলায় কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালেও আগুন লাগে।
জেলেনস্কি আরও জানান, জি৭ সম্মেলনে বৈঠকের প্রস্তাব পুতিন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তিনি ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রে পুতিনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কথা জানান। এর মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী ট্যাংকারগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্টারমার বলেন, জি৭ অংশীদারদের সঙ্গে আমরা পুতিন ও তার সহযোগীদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকব, যতক্ষণ না রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র থেমে যায় এবং ইউরোপে শান্তি ফিরে আসে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-সংশ্লিষ্ট ১৬০টি প্রতিষ্ঠান ও সত্তার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া যে নৌবহর ব্যবহার করছে, সেগুলোর সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সূত্র- টিআরটি ওয়ার্ল্ড
জে আই