দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জেলা, প্রধান মহানগরী এবং শিল্পাঞ্চলগুলোর জনসংখ্যাগত দ্রুত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এই উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল মূলত বিভিন্ন অঞ্চলের অভিবাসন প্রক্রিয়া, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রভাব এবং জনসংখ্যার সামগ্রিক প্রবণতা গভীরভাবে মূল্যায়ন করবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই সংক্রামিত অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতের গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ভারতের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা ও বড় শহরগুলোতে দ্রুত পরিবর্তনশীল জনসংখ্যাগত প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। গত বছরের ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে দেয়া ভাষণে নরেন্দ্র মোদি দেশের কিছু অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা শুরু হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এটি শুধু জনসংখ্যার পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার সঙ্গেও জড়িত। আর এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য গত ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে।
সূত্রগুলোর মতে, এই কমিটি ভারত-পাকিস্তান ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ভারতের কয়েকটি নগর কেন্দ্রের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করবে। এক বছরের মধ্যে কমিটিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে কমিটির অগ্রগতি এবং তাদের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কমিটির জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রথম বৈঠক করেছে এবং একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আগামী কয়েক মাসে কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এরপর সরকারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ভারত সরকার বিষয়টিকে কেবল জনসংখ্যা গবেষণার বিষয় হিসেবে নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অতীতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং স্পর্শকাতর এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে বসতি গড়ে তোলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, জনসংখ্যাগত বড় পরিবর্তনের কারণ চিহ্নিত করা এবং সময়মতো সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়া জাতীয় স্বার্থ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য জরুরি।
উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে- সীমান্ত জেলাগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা, সম্ভাব্য অবৈধ অভিবাসন ও অনুপ্রবেশের ঘটনা খতিয়ে দেখা, মহানগর ও শিল্পাঞ্চলে জনসংখ্যার বাড়তি চাপ খতিয়ে দেখা, স্থানীয় সম্পদ ও কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব খতিয়ে দেখাসহ ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নীতির জন্য সুপারিশ প্রস্তাব করা।
এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রাজ্য সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মতামতও সংগ্রহ করবে কমিটি।
কেএম