দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গেল মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এক মাসের মধ্যে জুনে তৃণমূলের হাতছাড়া হলো কলকাতার পৌরসভাও।
শুক্রবার (৫ জুন) কলকাতা পৌরসভার (কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন) মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। চেয়ারপারসন মালা রায়ের কাছে পদত্যাগ পত্র তুলে দেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পৌরসভায় একাধিক কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্য, জেলা পরিষদের সদস্যরা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এবার সেই ঢেউ লাগলো কলকাতা পৌরসভাতেও।
২০১৮ সালের নভেম্বরে কলকাতার মেয়র পদে বসেন ফিরহাদ হাকিম। ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মিউনিসিপাল করপোরেশনের প্রথম মুসলমান মেয়র হয়েছিলেন ফিরহাদ। পরবর্তীতে ২০২১ সালে দ্বিতীয়বার মেয়রের আসনে বসেন কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক। প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদ সমানতালে সামলেছেন মমতা ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতা।
সম্প্রতি মেয়র পদ থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে অনুমতি নিয়েছিলেন ফিরহাদ। কারণ হিসেবে নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছিলেন, কলকাতা পৌরসভায় কাজের পরিবেশ নেই, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেখানে কাজ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে ফিরহাদ হাকিম জানান, ‘আমি কেউ না। কিন্তু যে চেয়ারটায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিধানচন্দ্র রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ বসেছিলেন, সেই চেয়ারটার আলাদা একটা সম্মান রয়েছে। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেই চেয়ারটাকে আমি অবমাননা করতে পারিনা। আমার মনে হয়, চেয়ার ধরে বসে রইলাম অথচ ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার- এটা হতে পারে না। তাই আমি পদত্যাগ করছি।’
মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, ‘২০১৮ সালে তৎকালীন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর সব কাউন্সিলরদের সম্মতি নিয়ে আমাকে এই চেয়ারে বসানো হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি দায়িত্ব পালন করলাম ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত। ২০২১ সালের নির্বাচনে মানুষ আবার আমাদের সমর্থন করলেন এবং সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই পদে রয়েছি।’
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কেএম