দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কর্ণাটকে নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রামালিঙ্গা রেড্ডি। দপ্তর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের জেরে তার এই সিদ্ধান্ত নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে।
বুধবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রামালিঙ্গা রেড্ডি। তবে শুক্রবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, তাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডি কে শিবকুমার। কিন্তু পরে তাকে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা তার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
রামালিঙ্গা রেড্ডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ডি কে শিবকুমার তার বাড়িতে গিয়ে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি নিজে কোনো দপ্তর চাননি, বরং মুখ্যমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে ওই দপ্তরের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, দুইবার তাকে একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি তা মেনে নিতে পারেননি। এ কারণেই তিনি মন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, রামালিঙ্গা রেড্ডি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে রামালিঙ্গা রেড্ডি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন তাকে তার পছন্দের দপ্তর দেওয়া হলেও তিনি আর কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। তিনি বিধায়ক হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকবেন।
বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী তার ১৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। দলীয় সূত্রের দাবি, রামালিঙ্গা রেড্ডি বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরের দাবিতে অনড় ছিলেন, কিন্তু সেই দপ্তর তাকে দেওয়া হয়নি।
এছাড়া দপ্তর বণ্টন নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকেও তিনি মাঝপথে বেরিয়ে যান বলে জানা গেছে। বৈঠকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ২০২৩ সালে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সে সময় বলা হয়েছিল, মন্ত্রিসভায় পুনর্বিন্যাস হলে তাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, সরকারের ভেতরে আরও মতবিরোধ দেখা দেবে এবং শুধু মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন করে কংগ্রেস সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।
অন্যদিকে কংগ্রেস বিষয়টিকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, রামালিঙ্গা রেড্ডি দল ও রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ রামালিঙ্গা রেড্ডি। ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা বিটিএম লেআউট আসন থেকে আটবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি কর্ণাটক সরকারের পরিবহন, মুজরাই এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
/অ