দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে ওমানকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে মিলে ওমান যদি ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ইরান ও ওমানকে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক চলাচল তদারকির সুযোগ দেওয়া হলে তিনি তা মেনে নেবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ এটি নিয়ন্ত্রণ করবে না। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা। ওমানকে সবার মতো আচরণ করতে হবে, না হলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।’
প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, ট্রাম্প হয়তো ভুল করে ‘ওমান’ এর পরিবর্তে ‘ইরান’ বলতে চেয়েছিলেন। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক মাধ্যমে তার মন্তব্যের যে লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করে, সেখানে স্পষ্টভাবেই ওমানের নাম উল্লেখ ছিল।
ওমান দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ অবস্থানের জন্য পরিচিত। দেশটি কখনোই প্রকাশ্যে বলেনি যে তারা ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের মধ্যে দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সমঝোতাসহ একাধিক সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর শুরু হওয়া যুদ্ধ নিরসনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ওমান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ডনের নীতিনির্ধারণবিষয়ক পরিচালক রাঈদ জারার ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়া নিষিদ্ধ এবং সেই বাধ্যবাধকতা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।’
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন যেই তেলপথ পুনরায় চালু রাখতে চায়, সেই পথের পাশে অবস্থান করার কারণে একটি আরব দেশকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া মূলত একই ধরনের আইনবহির্ভূত মানসিকতা, যা ফেব্রুয়ারির যুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। ওই খসড়া অনুযায়ী, দুই দেশ যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি পরিচালনার ক্ষমতা পেতে পারে বলে দাবি করা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ খবরকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি পণ্য ও কৃষিখাতে ব্যবহৃত সারের বড় অংশ পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। বহু দশক ধরে এটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে এর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করতে শুরু করে। প্রণালির কিছু অংশ ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্য দিয়ে গেছে।
বুধবারের বৈঠকে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব ও কাতারসহ আরব দেশগুলোর উচিত ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করা।’
নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প তথাকথিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’ বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই উদ্যোগ আবারও তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা আমাদের কাছে এটা পাওনা। তারা যদি চুক্তিতে সই না করে, তাহলে হয়তো আমাদেরও সেই চুক্তি করা উচিত হবে না।’
এ বিষয়ে আল জাজিরার মন্তব্য চাইলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
/অ