দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বহু পাকিস্তানি শিয়াকে বহিষ্কার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। চাকরি হারানোর পাশাপাশি তারা নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ও ব্যক্তিগত মালপত্র থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৫ মে) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তানে শতাধিক শিয়া মুসলিম ফিরে এসেছেন আমিরাত থেকে। তাদের অনেকেই বছরের পর বছর সেখানে কাজ করলেও হঠাৎ করেই আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরে বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের শিয়া রাজনৈতিক সংগঠন মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিনের তৈরি তালিকা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পাকিস্তানি শিয়াকে আমিরাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র মহসিন আবিদি দাবি করেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
পাকিস্তানের শিয়া নেতাদের দাবি, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বহিষ্কারের ঘটনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
তবে কোন ভিত্তিতে পাকিস্তানিদের বহিষ্কার করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বহিষ্কার করা হয়নি। বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন লঙ্ঘনের কারণেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকার নীরবে পর্যালোচনা করছে এবং কূটনৈতিক কারণে প্রকাশ্যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ পাকিস্তানি আমিরাতে বসবাস ও কাজ করছেন। তাদের পাঠানো বছরে ৬০০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার পাকিস্তানের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বড় আকারে বহিষ্কারের ঘটনায় দেশটির অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমএস/