দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরান। এর ফলে উপসাগরে আটকে পড়া হাজারো নাবিকের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার জাহাজে ২০ হাজারের বেশি নাবিক আটকা পড়ে আছেন। তাদের অনেকেই জাহাজ ছাড়তে পারছেন না। খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটের পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
ভারতীয় নাবিক সালমান সিদ্দিকী রয়টার্সকে বলেন, ‘এখানে আমরা শুধু রাত পার করার পরিকল্পনা করি আর আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন কোনো হামলার শিকার না হই।’
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট অচল হয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার জাহাজ উপসাগরে আটকা পড়ে যায়।
সম্প্রতি ইরান গঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে প্রণালির দুই পাশের বিস্তীর্ণ জলসীমার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দাবি করা হয়েছে।
জাহাজ মালিকদের এখন ইরানের নির্ধারিত জটিল অনুমতি ও অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে আটকে থাকা জাহাজ ও পণ্য সরিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আরব বিশ্ব ও ইরানবিষয়ক সমন্বয়ক মোহাম্মদ আরাশেদি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নাবিকদের ঝুঁকি ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। অনেকেই মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না, আবার কেউ কেউ দেশে ফিরতেও পারছেন না।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২ হাজারের বেশি নাবিক তাদের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেতন বকেয়া, খাদ্য সংকট, জাহাজে আটকে থাকা এবং নিরাপত্তাহীনতা।
কিছু নাবিক জানিয়েছেন, দিনে মাত্র একবেলা ভাত বা ডাল খেয়ে থাকতে হচ্ছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও খুব সীমিত।
এদিকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় কিছু দেশ আটকে পড়া নাবিকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। সৌদি বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শত শত জাহাজে খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ করেছে এবং ৫ শতাধিক নাবিককে নিরাপদে জাহাজ পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/