দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গ্যাস স্টেশনের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় একাধিক সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনায় ইরানি হ্যাকারদের সন্দেহ করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
সূত্রগুলো জানায়, হ্যাকাররা অনলাইনে উন্মুক্ত এবং পাসওয়ার্ডবিহীন অটোমেটিক ট্যাংক গেজ (এটিজি) সিস্টেমে প্রবেশ করে। কিছু ক্ষেত্রে তারা ট্যাংকের ডিসপ্লে রিডিং পরিবর্তন করলেও জ্বালানির প্রকৃত পরিমাণে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এ ঘটনায় কোনো শারীরিক ক্ষতি বা হতাহতের খবর না মিললেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সিস্টেমে প্রবেশাধিকার থাকলে তাত্ত্বিকভাবে গ্যাস লিক শনাক্তকরণও ব্যাহত করা সম্ভব।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে একই ধরনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের কর্মকাণ্ড থাকায় দেশটিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত ফরেনসিক তথ্যের অভাবে হামলার উৎস নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থাে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ পেয়েছে। তবে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার অভিযোগ সামনে এলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরানের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে এটি হবে মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে তেহরানের সাম্প্রতিক হুমকির আরেকটি উদাহরণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় পানি চাপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রে ইসরাইলবিরোধী বার্তাও প্রদর্শন করা হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই ইন্টারনেট-সংযুক্ত এটিজি সিস্টেম নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। ২০১৫ সালে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড মাইক্রো পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে এটিজি সিস্টেম স্থাপন করলে দ্রুতই একটি ইরানপন্থি গ্রুপ সেটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সাইবার সক্ষমতাকে চীন বা রাশিয়ার তুলনায় দুর্বল মনে করলেও সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে তেহরানের সক্ষমতা ও অনিশ্চিত কৌশলের ইঙ্গিত মিলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন নির্বাচনের আগে ইরানের সম্ভাব্য সাইবার হুমকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটারদের ভয় দেখাতে ‘প্রাউড বয়েজ’-এর পরিচয়ে প্রচারণা চালানোর জন্য ইরানকে দায়ী করেছিল মার্কিন সংস্থাগুলো। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় ট্রাম্প প্রচারণা দলের নথি ফাঁসের ঘটনাতেও ইরানি হ্যাকারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
সাবেক সিসা পরিচালক ক্রিস ক্রেবস বলেন, ‘ইরান ২০২০ সালে যা করেছে এবং চলমান যুদ্ধে যেভাবে সাইবার কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাতে মধ্যবর্তী নির্বাচন থেকে তারা দূরে থাকবে বলে মনে হয় না।’
সূত্র: সিএনএন
এমএস/