দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ইসরায়েলের নাম। নিরা ডাটার ২০২৬ সালের বৈশ্বিক গণতন্ত্র ও দেশভিত্তিক ভাবমূর্তি জরিপে এমন তথ্য উঠে আসে। তালিকায় এরপর রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ শীর্ষক এ জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্পর্কে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার মতামত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে প্রকাশ করা হয় ‘ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’, যেখানে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জন মানুষের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এরপর রয়েছে কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় চলমান সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সংকট এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিরও বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। বর্তমানে দেশটি বিশ্বের পাঁচটি সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশের তালিকায় রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট পারসেপশন স্কোর ছিল প্লাস ২২ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে নেমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৬ শতাংশে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন, বাণিজ্য শুল্ক বৃদ্ধি, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু, ইউক্রেন সহায়তা কমানো এবং ইরান-ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এ অবস্থার পেছনে প্রভাব ফেলেছে।
‘ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স’ নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতন্ত্র জরিপ হিসেবে দাবি করেছে। এতে নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুমত, আইনের শাসন, ক্ষমতার ভারসাম্য ও সরকারের স্বচ্ছতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদের মতামত নেওয়া হয়।
জরিপে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও গণহত্যাবিষয়ক গবেষকেরা এ পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যার লক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলকে সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
/অ