দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি এলাকায় এক রাতের ব্যবধানে টানা নয়বার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মধ্যে।
বুধবার (১৩ মে) দেশটির মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় পারদিস এলাকায় এসব কম্পন অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘনঘন এ ভূকম্পন রাজধানীর নিচে জমে থাকা ভূত্বকীয় চাপ এবং সক্রিয় ফল্ট লাইনের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কম্পনগুলো তেহরান থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মোশা ফল্ট লাইনের কাছাকাছি আঘাত হানে। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফল্ট লাইনকে ইরানের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কম্পনগুলোর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬। সাধারণত এ অঞ্চলে মাঝেমধ্যে কম্পন অনুভূত হলেও, এক রাতের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে এতগুলো ভূমিকম্প হওয়া বিরল ঘটনা।
ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ মেহেদি জারে বলেন, ‘এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, এসব কম্পনের মাধ্যমে জমে থাকা শক্তি বের হয়ে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমছে, নাকি এটি বড় কোনো বিপর্যয়ের আগাম সংকেত।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানের ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে সরু সড়ক ও ঘিঞ্জি পরিবেশ উদ্ধারকাজকে জটিল করে তুলতে পারে।
প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস তেহরান মহানগরীতে। শহরটি উত্তর তেহরান, মোশা ও রে-সহ একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর বা খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
ইরানের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, তেহরানের কাছে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে তা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
২০০৩ সালে বাম শহরে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও ইরানিদের মনে আতঙ্ক হয়ে আছে।
এমএস/