দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উপসাগরীয় যুদ্ধের অবসান এবং পরবর্তী পারমাণবিক আলোচনা কাঠামো নির্ধারণে এক পাতার সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুইটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (৬ মে) অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের ধারণা, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেতে পারে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। সূত্রগুলোর মতে, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবার দুই পক্ষ সমঝোতার এতটা কাছাকাছি এসেছে।
প্রস্তাবিত এই সমঝোতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সাময়িক বিরতিতে সম্মত হতে পারে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের স্থগিত থাকা বিপুল অর্থ ছাড়ের বিষয়ে রাজি হতে পারে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়েও সম্মত হতে পারে।
তবে এই স্মারকের অনেক শর্তই একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবে। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে পুনরায় সংঘাতের ঝুঁকি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে বিভাজন রয়েছে, যা ঐকমত্যে পৌঁছানোকে কঠিন করে তুলতে পারে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তার মধ্যে এখনো সন্দেহ রয়েছে যে প্রাথমিক চুক্তিটিও আদৌ সম্পন্ন হবে কি না।
এর আগে বিভিন্ন দফা আলোচনা এবং চলমান যুদ্ধের মধ্যেও একাধিকবার চুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে ঘোষিত সামরিক অভিযান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলোচনায় অগ্রগতির কারণেই, যাতে নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে না পড়ে।
পর্দার আড়ালে এই ১৪ দফার এক পাতার সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার, সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে।
বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী, এই স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করা হবে এবং এরপর ৩০ দিনের একটি সময়সীমার মধ্যে বিস্তারিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে। ওই আলোচনায় প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমা নির্ধারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আলোচনার স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ বা জেনেভার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শিথিল করা হতে পারে। তবে আলোচনা ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় অবরোধ আরোপ বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রাখবে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে বিরতির মেয়াদ নিয়েও দরকষাকষি চলছে। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এই সময়সীমা অন্তত ১২ বছর হতে পারে, কেউ কেউ ১৫ বছর পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন। যেখানে ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যাতে ইরান কোনো লঙ্ঘন করলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো যায়। মেয়াদ শেষে ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমাত্রার সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের আকস্মিক পরিদর্শনসহ কঠোর তদারকি ব্যবস্থায় সম্মত হতে পারে তেহরান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থগিত থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড়ে সম্মত হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে, কিছু সূত্র দাবি করেছে—ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে রাজি হতে পারে, যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান দাবি। এমনকি ওই উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘একদিনেই পূর্ণাঙ্গ চুক্তি লেখা সম্ভব নয়। এটি অত্যন্ত জটিল ও কারিগরি বিষয়। একটি কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, যেখানে আলোচনার বিষয় ও সম্ভাব্য ছাড় স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে।’
তবে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা চুক্তিতে সম্মত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।’
/অ