দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালি থেকে সমুদ্রের মাইন অপসারণে অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে আধুনিক ড্রোন, বিস্ফোরক বহনকারী রোবট এবং হেলিকপ্টারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় এখনও ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি থেকে যাবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে তেহরানের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রণালিটি নিরাপদ করতে মাইন অপসারণে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রণালিতে পাঠিয়েছে এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তারা আরও জানায়, শিগগিরই পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনসহ অতিরিক্ত বাহিনী এই অভিযানে যুক্ত হবে।
গত মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রায় এক ডজন মাইন স্থাপন করেছে। যদিও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনো প্রকাশ্যে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সব মাইন পাতা জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরান চাইলে নতুন করে মাইন বসাতে পারে।
সামুদ্রিক মাইন যুদ্ধের কার্যকারিতা সম্পর্কে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল জন পেনট্রিথ বলেন, ‘মাইন খুব সস্তা হলেও সেগুলো অপসারণ ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি মাইন থাকার আশঙ্কাই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।’
ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নৌবাহিনী মানবচালিত মাইন অপসারণকারী জাহাজ ব্যবহার করত, যা সরাসরি মাইনক্ষেত্রে প্রবেশ করে সোনার প্রযুক্তির মাধ্যমে মাইন শনাক্ত করত এবং বিশেষ যন্ত্র দিয়ে সেগুলো অপসারণ করত। অনেক সময় ডুবুরিদেরও কাজে লাগানো হতো। তবে এই পুরনো বহরের বেশিরভাগই এখন ব্যবহার হচ্ছে না।
বর্তমানে এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে হালকা ‘উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ’, যেগুলোতে আধুনিক মাইন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি রয়েছে। এসব জাহাজে আধা-স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, পানির নিচে চলাচলকারী যান এবং দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট ব্যবহৃত হয়, যাতে নাবিকদের সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে যেতে না হয়। বর্তমানে এই ধরনের তিনটি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
মার্চের শেষ দিকে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এই তিনটির মধ্যে দুটি সিঙ্গাপুরে মেরামতের জন্য ছিল। তখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাইন অপসারণ সক্ষমতার মধ্যে ছিল পানির নিচের ড্রোন, চারটি প্রচলিত অ্যাভেঞ্জার-শ্রেণির জাহাজ, হেলিকপ্টার এবং ডুবুরি দল।
তবে এ বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনী বা সেন্ট্রাল কমান্ড বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের হাতে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাইন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রতলের ‘বটম মাইন’, যা জাহাজের নিচ দিয়ে গেলে বিস্ফোরিত হয়; পানির উপরে ভাসমান ‘টেথার্ড মাইন’; স্রোতের সঙ্গে ভেসে বেড়ানো ‘ড্রিফটিং মাইন’; এবং জাহাজের গায়ে সরাসরি লেগে থাকা ‘লিমপেট মাইন’।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
/অ