দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনো কার্যত স্থবির রয়েছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এখনো খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য বলছে, বুধবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা আগের দিনের ১১টি থেকে কম। বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় সাতটিতে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ৬০০টির বেশি জাহাজ আটকে রয়েছে, যার মধ্যে ৩২৫টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার।
ক্লেপলারের ট্রেড রিস্ক বিশ্লেষক আনা সুবাসিচ এক বিশ্লেষণে বলেন, ‘কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হলেও সামগ্রিক ট্রাফিক এখনো খুব সীমিত। নিয়ম মেনে চলা জাহাজমালিকরা সতর্ক থাকবেন এবং যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও দিনে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ চলাচল সম্ভব হতে পারে।’
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এ পথে চলাচল করত।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ইরান রক্ষা করছে না।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই খারাপ কাজ করছে। এটি আমাদের চুক্তি নয়।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই চুক্তি মানছে না। লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ব লেবাননের হত্যাযজ্ঞ দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন সিদ্ধান্ত নেবে—তারা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবে, নাকি তাদের মিত্রের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কমে গেলেও, বাস্তবে নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় বাজারে আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ আল জাবের সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, এই মুহূর্তে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা দরকার—হরমুজ প্রণালী খোলা নয়। এখানে প্রবেশ সীমিত, নিয়ন্ত্রিত এবং শর্তসাপেক্ষ। এটি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নয়, বরং চাপ প্রয়োগ।
সূত্র: আল–জাজিরা
/অ