দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা পাঁচ সপ্তাহের হামলার পরও ইরান এখনো উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নের বরাতে তিনটি সূত্র সিএনএনকে এসব তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, ইরানের ভাণ্ডারে এখনো হাজার হাজার ড্রোনও মজুত আছে।
একটি সূত্র বলছে, ‘পুরো অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মতো সক্ষমতা এখনো তাদের রয়েছে।’
তবে এই হিসাবের মধ্যে এমন কিছু উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যেগুলো হামলায় মাটির নিচে চাপা পড়েছে কিন্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান উপকূলে খুব একটা বিমান হামলা না চালানোয় এগুলো রক্ষা পেয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে সামরিক বিজয়ের দাবি করলেও এই গোয়েন্দা তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।
গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে এবং তাদের অস্ত্র কারখানা ও লঞ্চারগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নিহত হয়েছেন বলে সূত্রগুলো জানায়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হার কমে যাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এক ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানের হামলা ৯০ শতাংশ কমেছে, তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা ইরানের কার্যকর উৎক্ষেপণ লঞ্চারের সংখ্যা তুলনামূলক কম—প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বলে মনে করছেন। তারা মাটির নিচে চাপা বা অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়া লঞ্চারগুলোকে এই হিসাবের মধ্যে ধরেন না।
এদিকে, ইরানের নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌ ইউনিট এখনো প্রায় অর্ধেক সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তাদের হাতে শত শত ছোট নৌযান ও মানববিহীন জলযান রয়েছে। আর এগুলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
/অ