দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিস্থিতি ‘ফাঁস’ করার অভিযোগে জাতিসংঘে কর্মরত মোহাম্মদ সাফা পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে এই সম্ভাব্য অপরাধের সাক্ষী হয়ে থাকতে পারেন না।
প্রায় ১২ বছর ধরে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) হয়ে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাফা রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব ভিন্নমত দমন করে একটি প্রভাবশালী লবির স্বার্থ রক্ষা করছে। তার অভিযোগ, এই লবি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পরিকল্পিত ভ্রান্ত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে যুদ্ধমুখী পরিবেশ তৈরি করছে।
সাফা বলেন, ‘মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছে না, কারণ জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ তিনি তেহরানের ছবি দেখিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এটি একটি জনবহুল শহর যেখানে পরিবার, শিশু ও সাধারণ মানুষ বসবাস করছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত তিন বছরে তার ক্রমবর্ধমান হতাশার কারণ ছিল জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আড়াল করা। এছাড়া, ভিন্ন মত প্রকাশের কারণে তিনি ও তার পরিবার ‘মৃত্যুর হুমকি’ পেয়েছেন।
মোহাম্মদ সাফা জানিয়েছেন, তিনি জাতিসংঘের পরামর্শমূলক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে পিভিএ-এর নির্বাহী পরিচালক এবং ২০১৬ সালে সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন। পদত্যাগের মাধ্যমে তিনি মানবতার জন্য পারমাণবিক হুমকি ঠেকানোর চেষ্টা চালাতে চান এবং বৈশ্বিক জনগণকে পরিস্থিতি বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা একটি পরিকল্পিত ভ্রান্ত তথ্য প্রচার, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
এমএস/