দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রভাবে কুয়েতের আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। বিশেষ করে যাদের ওমরাহ ভিসা রয়েছে, তাদের জন্য সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে সৌদি আরবে পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওমরাহ ভিসাধারীদের আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যেই সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। এর ফলে শেষ ভরসা হিসেবে স্থলপথেই সৌদি আরবের দিকে ছুটছেন কুয়েত প্রবাসীরা।
সামনে ঈদুল ফিতর, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ ছুটি ও যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে কুয়েত প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের উদ্বেগ ও তাড়াহুড়া। কেউ ওমরাহ পালন করতে যাচ্ছেন, আবার কেউ সৌদি আরব হয়ে নিজ কর্মস্থল বা বাংলাদেশে ফিরছেন। এর ফলে কুয়েতের বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে বিমানের টিকিট বিক্রি সীমিত থাকলেও ভিসা আবেদন জমা পড়ছে বিপুল পরিমাণে।
অনেক প্রবাসী সৌদি আরবের জেদ্দা, মদিনা অথবা রিয়াদ হয়ে বাংলাদেশে ফিরছেন। কুয়েত সিটি থেকে সৌদি আরবের সবচেয়ে নিকটবর্তী বিমানবন্দর হলো হাফর আল-বাতিনের কাইসুমাহ (আল বাতিন) বিমানবন্দর। বর্তমানে এই বিমানবন্দর ঘিরেই প্রবাসীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি সীমান্ত এলাকাতেও সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট ও যাত্রীদের চাপ।
কুয়েত থেকে স্থলপথে সৌদি সীমান্ত পার হয়ে আল বাতিন বিমানবন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। সীমান্ত পারাপারের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগলেও অনেক প্রবাসী একদিনের মধ্যেই সৌদি আরব হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রবাসী সৌদি আরব হয়ে কুয়েতে ফিরছেন। এ সময় কুয়েত সরকারও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনছে।
তবে এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য পথ পাড়ি দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং অসুস্থ যাত্রীরা। সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষা, যাতায়াতের ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই পড়ছেন শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগে।
এই অবস্থায় প্রবাসীদের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দাবি উঠেছে। তাদের মতে, বাংলাদেশ সরকার বা কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস যদি সৌদি আরবের আল বাতিন বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে একটি বিশেষ সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেয়—বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ ও জরুরি যাত্রীদের জন্য। তাহলে অনেক প্রবাসী এই আতঙ্ক ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
প্রবাসীরা আশা করছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
আরএ