দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলে পাহারা দেওয়ার জন্য এখনো প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইট বলেন, ‘এটি খুব দ্রুতই শুরু হবে, তবে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। আমরা প্রস্তুত নই। আমাদের সমস্ত সামরিক শক্তি এখন ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং তাদের সামরিক সরঞ্জাম তৈরির শিল্প ধ্বংস করার দিকে মনোনিবেশ করছে।’
তিনি আরও জানান, চলতি মাসের শেষ নাগাদ নৌবাহিনী ট্যাঙ্কারগুলো পাহারা দেওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। সিএনবিসি-র ‘স্কোয়াক বক্স’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি আজ বিকেলেই পেন্টাগনে যাব—সামরিক বাহিনী বর্তমানে এটি নিয়েই কাজ করছে।’
পারস্য উপসাগরে এই সপ্তাহে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বৃহস্পতিবার প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে স্পর্শ করেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭% বেড়ে ৯৮.৪৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাইটের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভুলবশত একটি পোস্ট করা হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে নৌবাহিনী ইতিমধ্যে একটি ট্যাঙ্কারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে। পোস্টটি দ্রুত মুছে ফেলা হলেও, এর প্রভাবে মঙ্গলবার তেলের দাম একপর্যায়ে ১৭%-এর বেশি কমে গিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৩ মার্চ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার পাহারা দেওয়ার কাজ শুরু করবে।’
ইরানের হামলার ভয়ে জাহাজ মালিকরা আতঙ্কিত থাকায় বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল স্থবির হয়ে আছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র্যাপিডান এনার্জি এবং উড ম্যাকেঞ্জি-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া ইতিহাসে তেলের সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
পারস্য উপসাগরে প্রবেশের এবং বের হওয়ার একমাত্র পথ হলো এই প্রণালী। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের প্রায় ২০% এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পার হতো।
বিশাল এই সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে বুধবার ৩০টিরও বেশি দেশ তাদের জরুরি মজুদ থেকে বাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়বে।
এটি ইতিহাসে জরুরি মজুদ থেকে তেল ছাড়ার বৃহত্তম ঘটনা, তবে এই পদক্ষেপ তেলের বাজারকে শান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে এবং কবে নাগাদ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা এখনো অস্পষ্ট। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে যে যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে।
রাইট সিএনবিসি-কে বলেন, ‘এটি এমন একটি অপারেশন যা শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে, কয়েক মাস নয়।’
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের লক্ষ্য তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে নিয়ে যাওয়া।