দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এক সময় এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসবার্গ। এখন এর অস্তিত্ব টিকে থাকবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ।
বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আইসবার্গগুলোর একটি—এ২৩এ—এর গল্প প্রায় শেষের দিকে। প্রায় ৪০ বছরের এক অবিশ্বাস্য যাত্রার পর এই আইসবার্গটি বিজ্ঞানীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে।
‘এ২৩এ’ নামে পরিচিত এই আইসবার্গটি একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ছিল। এর আয়তন ছিল গ্রেটার লন্ডনের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি।
কিন্তু বহু বাঁক-বদলপূর্ণ পথ পেরিয়ে গত এক বছরে ‘এ২৩এ’ ধীরে ধীরে গলেছে, ভেঙেছে এবং নাটকীয়ভাবে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছে।
এখন এন্টার্কটিকার বরফাচ্ছন্ন সাগর থেকে অনেক দূরে এসে এর অবশিষ্ট অংশ উষ্ণ পানিতে দ্রুত গলে যাচ্ছে। এটি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি আর কয়েক সপ্তাহের বেশি টিকে থাকবে না।
সব আইসবার্গই শেষ পর্যন্ত গলে যায়। তবে বিজ্ঞানীরা ‘এ২৩এ’ কীভাবে ভেঙে পড়ছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে বোঝা যায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অ্যান্টার্কটিকার অন্য অংশগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
ক্যামব্রিজে অবস্থিত ব্রিটিশ এন্টার্কটিকা সার্ভে–এর অধ্যাপক মাইক মেরেডিথ বলেন, ‘এটি ছিল এক অসাধারণ যাত্রা। কিন্তু এখন এটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’
এ২৩এ-এর শেষ কয়েক মাসের গল্প
এই গল্প বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৮৬ সালে। সেই বছর বর্তমান ইউক্রেন–এর উত্তরে অবস্থিত চেরোনবিল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে–এ ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যা ইতিহাসে পরিচিত ‘চেরোনবিল বিপর্যয়’ নামে। একই বছর গ্যারি লিনেকার ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এবং হুইটনি হস্টন তার প্রথম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পান।
এদিকে পৃথিবীর নজরের বাইরে, অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফখণ্ড ফিলচনার আইস সেল্ফ–এ বড় পরিবর্তন ঘটছিল। এই বরফখণ্ডটি অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ থেকে বেরিয়ে ওয়েডেল সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বিশাল ভাসমান বরফের স্তর।
সেই সময় এখান থেকে যে বড় আইসবার্গগুলো ভেঙে বেরিয়ে আসে, তার একটি ছিল ‘এ২৩এ’। তখন এর আয়তন ছিল প্রায় ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার (প্রায় ১,৫৪০ বর্গমাইল)।
ভেঙে বের হওয়ার পর এটি ওয়েডেল সাগরের তলদেশের কাদায় আটকে যায় এবং টানা ৩০ বছরেরও বেশি সময় সেখানে স্থির হয়ে থাকে।
২০২০ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বুঝতেই পারেননি যে ‘এ২৩এ’ আবার নড়তে শুরু করেছে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার শেষ যাত্রা।
এবি/