দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও কান্দাহারে তালেবান সরকারের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তালেবানকে সরাসরি লক্ষ্য করে এটিই প্রথম হামলা বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ পরিস্থিতিকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তালেবানের সামরিক কার্যালয় ও পোস্টে আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সেক্টরে স্থল সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তালেবান পাল্টা হামলার দাবি করেছে এবং পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনায় ড্রোন দিয়ে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে।
উভয় পক্ষই ভারী ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে, তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ শুক্রবার বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন এটি আমাদের ও আপনাদের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ।’
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ার বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বিমান হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে বিস্তারিত জানাননি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা উল্লাহ তারার দাবি করেছেন, পাকিস্তানি তালেবান জড়িত ছিল এবং সব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, কোনো প্রাণহানি হয়নি।
কাবুলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্ফোরণের পর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। এক ট্যাক্সিচালক বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি বিমান চলাচলের শব্দ শোনেন, পরে বিস্ফোরণ হয় এবং একটি অস্ত্রাগারে আগুন ধরে যায়।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও সৌদি আরব পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। ইরানও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ এবং সামরিক সক্ষমতায় আফগানিস্তানের তুলনায় এগিয়ে। তবে তালেবান দীর্ঘদিনের গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় অভ্যস্ত। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/