দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি সপ্তাহের শেষে ইরানে হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান ও নৌবাহিনীর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পর হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে যে সামরিক বাহিনী চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।
তবে এক সূত্র সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ও বিপক্ষে—দুই দিকের যুক্তিই বিবেচনা করছেন এবং সেরা পদক্ষেপ কী হতে পারে তা নিয়ে উপদেষ্টা ও মিত্রদের মতামত নিচ্ছেন।
বুধবার প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন বলে এক সূত্র জানান।
একই দিন ট্রাম্প বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারের কাছ থেকেও ব্রিফিং নেন; তারা আগের দিন ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সপ্তাহান্তের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এক সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘তিনি এ বিষয়টি নিয়ে অনেক সময় ব্যয় করছেন।’
মার্কিন বাহিনীর হামলার প্রস্তুতির খবর প্রথম প্রকাশ করে সিবিএস নিউজ।
মঙ্গলবার জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনায় ইরান ও মার্কিন আলোচকরা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে নোট আদান-প্রদান করেন। তবে কোনো সুস্পষ্ট সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
ইরানের প্রধান আলোচক বলেন, উভয় পক্ষ একটি ‘নির্দেশনামূলক নীতিমালার সেট’-এ একমত হয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনও অনেক বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা বাকি আছে।’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার বলেন, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের আলোচনার অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ওই সময়ের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইরান আলোচনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করবেন বলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা জানান।
লেভিট বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে যাচ্ছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কূটনীতি সবসময় তার প্রথম পছন্দ।’ তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রয়েছে।
এই অস্পষ্ট বক্তব্যগুলো দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে—যদিও কর্মকর্তারা কূটনৈতিক সমাধানের আশাও প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া যুক্তরাজ্যভিত্তিক মার্কিন বিমানবাহিনীর রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ও যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি ও সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-২২ র্যাপ্টরের মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। নৌবাহিনীও পিছিয়ে নেই। তারা মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ১৩টি জাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এবং একঝাঁক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক চাপের মধ্যে ইরান তাদের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা শক্তিশালী করছে। স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কংক্রিট ও বিপুল পরিমাণ মাটি দিয়ে ঢেকে সুরক্ষিত করা হচ্ছে।
হামলার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণে কিছু ক্যালেন্ডারভিত্তিক ঘটনাও ভূমিকা রাখতে পারে। শীতকালীন অলিম্পিক আগামী রোববার শেষ হচ্ছে; কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তা মনে করেন, তার আগে হামলা হবে না।
এদিকে বুধবার থেকে রমজান শুরু হয়েছে; মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মার্কিন মিত্র দেশের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে মুসলিমদের পবিত্র মাসে হামলা হলে তা অসম্মানের বার্তা দেবে।
এছাড়া ট্রাম্প মঙ্গলবার তার বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দেবেন, যা তার মধ্যবর্তী নির্বাচনী বছরের অভ্যন্তরীণ এজেন্ডারৃ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব বিষয় তিনি বিবেচনায় নিচ্ছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরান নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পক্ষে মার্কিন জনগণ বা কংগ্রেসের সমর্থন আদায়ের তেমন চেষ্টা দেখা যায়নি। তিনি শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার কথা বলেছেন, তবে হামলা চালালে তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য কী হবে, তা স্পষ্ট করেননি।
এবি/