দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যৌন কেলেঙ্কারিতে জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। এতে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।
রুশ মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কের পর মার্কিন ধনকুবের বিল গেটসের যৌনবাহিত রোগে আক্রান্তের দাবিও উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, নতুন প্রকাশিত নথির মধ্যে কিছু খসড়া ইমেইল রয়েছে, যেগুলো এপস্টেইনের লেখা বলে মনে করা হচ্ছে এবং যেখানে বিল গেটসকে কেন্দ্র করে নানা দাবি তোলা হয়েছে।
এসব ইমেইলে অভিযোগ করা হয়েছে, রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের পর গেটস নাকি একটি এসটিডি সংক্রমণের বিষয়টি তার তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের কাছ থেকে গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এপস্টেইন এসব দাবি বিল গেটসের দীর্ঘদিনের বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা বরিস নিকোলিচের পক্ষ থেকে একটি খসড়া বিবৃতিতে লিখেছিলেন।
খসড়ায় দাবি করা হয়, গেটসকে রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের পরিণতি সামাল দিতে ওষুধ সংগ্রহে সহায়তা করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে হয়েছিল।
ইমেইলে লেখা ছিল, ‘আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং আমি ভুলভাবে তাতে সম্মত হয়েছি এমন সব কাজে অংশ নিতে, যেগুলো নৈতিকভাবে অনুচিত থেকে শুরু করে নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, এমনকি কখনো কখনো অবৈধ সীমার কাছাকাছি। রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের পরিণতি সামাল দিতে বিলকে ওষুধ জোগাড় করে দেওয়া, বিবাহিত নারীদের সঙ্গে তার গোপন সম্পর্ক সহজ করে দেওয়া, এমনকি ব্রিজ টুর্নামেন্টের জন্য অ্যাডেরল জোগাড় করে দেওয়ার অনুরোধ—এসবের জন্য আমি আমার বন্ধু ও ভবিষ্যৎ সহকর্মীদের কাছে নিজের নৈতিক ব্যর্থতা স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়া এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার দায় অনুভব করছি।’
আরেকটি আলাদা খসড়া ইমেইলে, যেটি গেটসকে উদ্দেশ্য করে লেখা এবং নিকোলিচের নামে তৈরি। সেখানে এপস্টেইন অভিযোগ করেন, গেটস নিজের জনসম্মুখের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য একটি ‘কভার-আপ’ করতে চেয়েছিলেন।
সেখানে বলা হয়, গেটস নাকি অ্যান্টিবায়োটিক চেয়েছিলেন, যাতে মেলিন্ডাকে তার অজান্তেই সেগুলো দেওয়া যায়, এবং কথিত এসটিডি সংক্রান্ত ইমেইল মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন।
খসড়ায় বলা হয়, ‘আপনি আমাকে অনুনয় করেছেন যেন আপনার এসটিডি সংক্রান্ত ইমেইলগুলো মুছে ফেলি, এবং অনুরোধ করেছেন যে আমি আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করি, যাতে সেগুলো গোপনে মেলিন্ডাকে দেওয়া যায়…।’
এতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, মেলিন্ডা যদি প্রকাশ্যভাবে বিচ্ছেদের মামলা করেন, তাহলে তার প্রভাব বিলিয়ন ডলারের দাতব্য প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির ওপর পড়তে পারে।
খসড়ায় বলা হয়, ‘আমি উদ্বিগ্ন যে, মেলিন্ডা যদি আপনার কথামতো প্রকাশ্য বিচ্ছেদের পথে যান, তাহলে শুধু প্রতিশ্রুতি কর্মসূচিতেই এমন ক্ষতি হবে যে, সামাজিক কল্যাণে ব্যবহৃত বিলিয়ন ডলার অর্থ আর পাওয়া যাবে না, কারণ অনেক স্বামী-স্ত্রী তখন তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে পারেন।’
নথি প্রকাশে আবারও উঠে এসেছে ২০১৭ সালের সেই প্রতিবেদন, যেখানে বলা হয়েছিল এপস্টেইন রুশ ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভার সঙ্গে গেটসের কথিত সম্পর্ক ফাঁস করার হুমকি দিয়েছিলেন।
পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, জেপি মরগান চেজের সঙ্গে এপস্টেইন যে একটি দাতব্য তহবিল চালু করেছিলেন, তাতে গেটস অংশ নিতে অস্বীকার করার পরই এই হুমকি আসে।
গেটসের এক মুখপাত্র নথিতে থাকা অভিযোগগুলো কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এগুলো ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং পুরোপুরি মিথ্যা।’
মুখপাত্র বলেন, ‘এই নথিগুলো একটাই বিষয় স্পষ্ট করে—এপস্টেইন গেটসের সঙ্গে কোনো চলমান সম্পর্ক না থাকায় হতাশ ছিলেন এবং তাকে ফাঁসানো ও বদনাম করার জন্য তিনি কতদূর যেতে পারেন।’
এর আগের নথি প্রকাশে এপস্টেইনের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা (যেমন বিল গেটস), চলচ্চিত্র নির্মাতা উডি অ্যালেন, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিকদের—যার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও রয়েছেন—যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে।
বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের দাম্পত্য জীবন ছিল ১৯৯৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত। মেলিন্ডা আগে বলেছেন, গেটসের পরকীয়া সম্পর্ক এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগ তাদের বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ ছিল, যদিও তিনি বিস্তারিত জানাননি।
জেফরি এপস্টেইন, একজন ধনী মার্কিন বিনিয়োগকারী। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার ও যৌনতার কাজে ব্যবহারের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান। যদিও তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এবি/