দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত থেকে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও। দুইজনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরও ভারত ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাঠানো এক ইমেইলে ডব্লিউএইচও জানায়, ‘এই দুইটি ঘটনার কারণে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম’। একই সঙ্গে বলা হয়, এ ধরনের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ভারতের সক্ষমতা রয়েছে এবং এখনো মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে ভারতের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
ভারতে সংক্রমণের খবর আসার পর হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তবে ডব্লিউএইচও বলছে, এ ভাইরাস আরও ছড়ানোর আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না, কারণ এটি ভারতের কিছু অঞ্চল ও প্রতিবেশী বাংলাদেশে বাদুড়ের মধ্যে সক্রিয়ভাবে বিদ্যমান।
নিপাহ ভাইরাস মূলত ফলখেকো বাদুড় ও শূকরের মতো প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। এতে আক্রান্ত হলে জ্বর ও মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দেয় এবং মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এখনো এ রোগের কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা নেই, যদিও টিকা তৈরির কাজ চলছে। সংক্রমিত বাদুড় বা তাদের দ্বারা দূষিত ফলের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হয়। তবে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ সহজ নয় এবং সাধারণত দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলেই ছড়ায়।
ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, ছোট পরিসরের প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিক নয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনও কম। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সংক্রমণের উৎস এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে উচ্চ মৃত্যুহার, কার্যকর চিকিৎসা ও অনুমোদিত টিকার অভাব এবং ভাইরাসটির রূপান্তরিত হয়ে আরও সংক্রামক হয়ে ওঠার আশঙ্কার কারণে নিপাহকে তারা অগ্রাধিকারভিত্তিক রোগজীবাণু হিসেবে বিবেচনা করছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ডিসেম্বরের শেষ দিকে আক্রান্ত দুইজন স্বাস্থ্যকর্মী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ভারতে বিশেষ করে কেরালা রাজ্যে নিয়মিত নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা দেখা যায়। ২০১৮ সালে সেখানে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি ভারতে সপ্তম এবং পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় প্রাদুর্ভাব। এর আগের দুটি প্রাদুর্ভাব ২০০১ ও ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হয়েছিল। বাংলাদেশেও প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/