দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘মিঞাঁ মুসলমানদের’ উচিত আসামে নয়, বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন, যেকোনোভাবে যেন মিঞাঁ মুসলমানদের উত্যক্ত করা হয়, যাতে তারা আসাম ছেড়ে চলে যান। উৎপাত করলে প্রয়োজনে পেটাতে হবে।
তারা যে মিঞাঁ মুসলমানদের বিরুদ্ধে, তা নিয়ে তাদের কোনো লুকোচুরি নেই বলেও জানান তিনি।
গত ২৭ জানুয়ারি তিনসুকিয়া জেলার ডিব্রুগড়ে একটি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যদি ‘মিঁয়া মুসলমানদের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করা হয়, তবে মনে হবে আসামে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর কোনও অস্তিত্ব নেই।
তার দাবি, এই জনগোষ্ঠীকে ‘চাপে রাখা’ প্রয়োজন, না হলে তারা জমি, সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার দখল করে নেবে। তিনি একে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, এই অবস্থানের মাধ্যমে ‘প্রতিরোধ’ দেখানোই সরকারের লক্ষ্য।
কীভাবে এই ‘চাপ’ সৃষ্টি করা হবে, তাও মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘গুয়াহাটিতে আমি দেখেছি অনেক মুসলমান অটোচালক রয়েছে। তাদের অটোতে উঠবেন এবং নামার পর যদি পাঁচ টাকা ভাড়া চায়, চার টাকা দেবেন। তারা উৎপাত করলে প্রয়োজনে পেটাতে হবে। যেসব জায়গায় তারা কাজের সুযোগ ছিনিয়ে নিয়েছে, সেখানেও আক্রমণ করতে হবে। আমি বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়া কন্টাক্টারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের জানিয়েছি, মিঁয়া মুসলমানদের হটিয়ে স্থানীয় অসমীয়াদের সুযোগ দেওয়া হোক। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে কাজের সুযোগ— সব জায়গায় সম্মিলিত আক্রমণ করতে হবে। অসমীয়া হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব।’
বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, ভারতে মিঞাঁ শব্দটি আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলা একটি ‘কটু কথা’, যার অর্থ ধরে নেওয়া হয় যে তারা বাংলাদেশি। গত কয়েকদিন ধরেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা মিঞাঁ মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন উক্তি করছেন।
আসামে কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন হবে এবং এখন সেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ চলছে। এই সংশোধন অবশ্য পশ্চিমবঙ্গসহ আরও অনেক রাজ্যে যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন চলছে, তা থেকে পৃথক। আসামের এই তালিকা সংশোধন একরকম ভোটের আগে রুটিন প্রক্রিয়া।
বিশ্বশর্মা বলেছেন, ওই ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ে বিজেপি কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা সন্দেহজনক বিদেশিদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে গুচ্ছ গুচ্ছ ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দেয়। ইতিমধ্যেই বিজেপি কর্মীরা পাঁচ লাখ ফর্ম জমা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভোটার তালিকায় কারও নাম নিয়ে যে কেউই ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন।
আপত্তি তোলার জন্য গুচ্ছ গুচ্ছ ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দেওয়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসামের কংগ্রেস নেতৃত্ব।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী আগেও মিঞাঁ মুসলমানদের নিয়ে নানা কথা বললেও গত মঙ্গলবার থেকে তিনি বারবার এই প্রসঙ্গ তুলছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ভোট চুরি মানে আমরা কিছু মিঞাঁ ভোট চুরি করতে চাইছি। আদর্শ ব্যবস্থা সেটাই হত যদি তাদের আসামে ভোট দেওয়ার অনুমতি না দিয়ে বাংলাদেশে দেওয়া হত।’
‘আমরা নিশ্চিত করছি যাতে তারা আসামে ভোট না দিতে পারে,’ মন্তব্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার।
এবি/