দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বন্দি বিনিময়ের শেষ ধাপে ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) কাছে হস্তান্তর করেছে ইসরায়েল। এর মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই গণহত্যামূলক যুদ্ধের একটি অধ্যায় শেষ হলো।
আল জাজিরার হানি মাহমুদ গাজা থেকে জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে— মরদেহগুলো খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল নাকি গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে বৃহস্পতিবারের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
বুধবার ইসরায়েল পুলিশ সদস্য রান গিভিলিকে সমাহিত করেছে। তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হামলায় নিহত হন।
সেদিন হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী যে ২৫১ জনকে বন্দি করেছিল, গিভিলির দেহাবশেষই ছিল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে থাকা শেষ ইসরায়েলি বন্দি।
বুধবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গিভিলিকে ‘ইসরায়েলের বীর’ বলে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করে দেন, ইসরায়েলের শত্রুরা আবার হামলা চালালে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
গাজা থেকে সব বন্দিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি ইসরায়েলের যুদ্ধকালজুড়ে বিভিন্ন যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে, পাশাপাশি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যর্থ সামরিক উদ্ধার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে।
সর্বশেষ বন্দি-বিনিময়টি ছিল ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ।
যদিও গাজায় আটক সব বন্দিকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তবুও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি এখনো ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই কোনো অভিযোগ বা বিচার নেই।
জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের জুলাই ২০২৪-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনিকে ‘নিরাপত্তাজনিত বন্দি’ হিসেবে আটক রেখেছে, যাদের অনেককেই আটকের কারণ জানানো হয়নি।
এসব আটককেন্দ্রে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের মতো ভয়াবহ নির্যাতন ব্যাপকভাবে ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নভেম্বরে ইসরায়েলের অধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটস–ইসরায়েল জানায়, ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মধ্যে অন্তত ৯৪ জন আটকাবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে নির্যাতন, চিকিৎসার অবহেলা, অপুষ্টি ও হামলার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
এবি/